আজ ২৯ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক পরিচর্যা ও সহায়তা দিবস। পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতে পরিচর্যার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং যাঁরা অন্যের যত্ন ও সহায়তায় নিয়োজিত, তাঁদের অবদান ও অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৩ সালে ২৯ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক পরিচর্যা ও সহায়তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরিচর্যা ও সহায়তাব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ—পরিচর্যার পরিধি বিস্তৃত। এসব কাজের বড় একটি অংশ পরিবারের সদস্যরা বিনা পারিশ্রমিকে করে থাকেন। অন্যদিকে নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, গৃহকর্মী ও পেশাদার পরিচর্যাকারীরাও পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে থাকেন।
বিশ্বজুড়ে বিনা পারিশ্রমিকের পরিচর্যা ও গৃহস্থালি কাজের বড় অংশ নারীরা করে থাকেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নারীরা মোট অবৈতনিক পরিচর্যার ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ সম্পাদন করেন, যা পুরুষদের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। এই দায়িত্বের অসম বণ্টন অনেক নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আয় ও পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ সীমিত করে।
এ ছাড়া পরিচর্যাসেবায় নিয়োজিত অনেক কর্মী কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা ও যথাযথ স্বীকৃতির অভাবে ভোগেন। ফলে পরিচর্যাকারীদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পরিচর্যাসেবার মান উন্নয়ন, কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সবার জন্য সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।
এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য-‘শোভন কাজের মাধ্যমে টেকসই পরিচর্যা ও সহায়তাব্যবস্থা গড়ে তোলা’। প্রতিপাদ্যটি পরিচর্যাকর্মীদের অধিকার, কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক পরিচর্যা ও সহায়তা দিবসের মূল বার্তা হলো, পরিচর্যা শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দায়িত্ব নয়; এটি সমাজ ও অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ। পরিচর্যাকারীদের যথাযথ স্বীকৃতি, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সবার জন্য মানসম্মত পরিচর্যাসেবা নিশ্চিত করার পথও সুগম হবে।
এফএস