বিশ্বজুড়ে কালো বিড়াল সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা এবং তাদের দত্তক নিতে মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে আজ ২৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে জাতীয় কালো বিড়াল দিবস।
বিড়ালের গায়ের রং কালো হওয়ায় অনেক সময় তাদের ঘিরে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। কোথাও কালো বিড়ালকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়, আবার কোথাও তাদের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। এসব ধারণার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কালো বিড়াল অন্য রঙের বিড়ালের তুলনায় দত্তক পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রাণীকল্যাণবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ক্যাটস প্রোটেকশন ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর দিবসটি চালু করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রচারণা শুরুর সময় তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কালো ও সাদা-কালো বিড়াল অন্য রঙের বিড়ালের তুলনায় গড়ে সাত দিন বেশি সময় নিয়ে নতুন বাড়ি খুঁজে পেত। এই পরিস্থিতি বদলানো এবং কালো বিড়ালের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রাণীকল্যাণকর্মীদের মতে, বিড়ালের গায়ের রং তার স্বভাব, আচরণ কিংবা মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়। অন্য বিড়ালের মতো কালো বিড়ালও স্নেহশীল, খেলাপ্রিয় ও মানুষের সঙ্গ উপভোগ করতে পারে।
কালো বিড়াল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দূর করতে বিভিন্ন প্রাণীকল্যাণ সংস্থা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালো বিড়ালের ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিড়াল দত্তক নেওয়ার বিষয়েও উৎসাহ দেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে কালো বিড়াল সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, অসহায় বিড়ালের যত্ন নেওয়া এবং প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কেউ বিড়াল পোষার সিদ্ধান্ত নিলে শুধু গায়ের রং দেখে নয়, প্রাণীটির স্বাস্থ্য, স্বভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি যত্নের দায়িত্ব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
জাতীয় কালো বিড়াল দিবসের মূল বার্তা হলো গায়ের রং নয়, প্রতিটি প্রাণীর নিরাপত্তা, যত্ন ও ভালোবাসা পাওয়ার অধিকারই হোক বিবেচনার বিষয়।
এফএস