ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ঢামেকে চলছে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরা
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট চলছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে তাদের সব অ্যাম্বুলেন্স বের করে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে তাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করানো হয়। সেখানে সিসি ক্যামেরা, লাইট ও গেটও স্থাপন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও তাদের গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।

শাহাদাত হোসেন বলেন, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলেও পুলিশের সার্জেন্ট মামলা দেন। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য তারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল থেকে তাদের সব অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন ভবনের নিচে যে পার্কিংয়ের জায়গায় তারা সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন, সেখানে প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে সরকারকে রাজস্ব দিতেও তারা রাজি। পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

এদিকে, অ্যাম্বুলেন্স সংকটে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মো. শাহীন জানান, তার ৭০ বছর বয়সী দাদি হালিমা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি।

শাহীন বলেন, সরকারি হাসপাতালে এসেও এমন বিপদে পড়তে হবে, তা কখনো ভাবিনি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও চোখে পড়েনি। স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, তার বড় ভাগিনা মো. রাসেল (২২) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাসেল মারা যান। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি।

মনির হোসেন বলেন, হাসপাতালের একজন চিকিৎসক আমাদের ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যেতে বলেছেন। স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে মরদেহ নেওয়ার গাড়ি না পেয়ে অসহায়ের মতো বসে আছি। এত বড় সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করিনি।

এদিকে, গুরুতর আহত শাশুড়িকে নিয়ে খুলনা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন আব্দুল আহাদ। পরে তাকে কিডনি হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুর থেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজলেও পাননি বলে জানান তিনি।

আব্দুল আহাদ বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যাচ্ছে না, কেউ কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। সময়মতো অন্য হাসপাতালে নিতে না পারলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিকেলের কয়েকজন কর্মচারী জানান, সকাল থেকে রোগী এবং মরদেহ এখান থেকে অনেকে অটোরিকশা সিএনজি এমনকি পিকআপভ্যানে করেও নিয়ে গিয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের বাইরে থেকেও অনেক অ্যাম্বুলেন্স আসলেও এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না রোগী ও তার স্বজনরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা মরদেহ এবং রোগী নিয়ে অপেক্ষা করলেও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না তারা। এখানে পরিচালকের উচিত অ্যাম্বুলেন্স নেতাদের সঙ্গে বসে এই বিষয়টি সমাধান করা।


টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝
Advertisement