ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
হাঁটুর ক্ষয়জনিত ব্যথা: কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ পিএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৮:১২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর ব্যথা খুবই কমন একটি সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন মানুষ হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা ক্ষয়জনিত সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশেও ৪০ এর বেশি বয়সীদের বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি তিনজনের একজন কোন না কোন সময়ে হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত হন। কিন্তু সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এটি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলতে পারে।

হাঁটুর ক্ষয়জনিত ব্যথার পেছনে মূল কারণ হলো বয়সের সাথে হাঁটুর কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকা। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো হাঁটুর জয়েন্টও বয়সের ভার বহন করতে করতে একসময় দুর্বল হতে শুরু করে। উল্লেখ্য, পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে এটি আগে এবং বেশি দেখা যায়। হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়া এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হলেও – অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘদিন ভারী কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ইত্যাদি এই রোগের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। 

হাঁটুর ক্ষয়জনিত সমস্যার লক্ষণগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পেলেও খুব সহজেই বোঝা যায়। প্রাথমিকভাবে, হাঁটুতে হালকা ব্যথা অনুভব হয়, যা পরবর্তীতে বাড়তে থাকে। সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো; হাঁটুতে ক্রমাগত ব্যথা অনুভব হওয়া, হাঁটু ফুলে যাওয়া এবং চলাফেরায় কষ্ট হওয়া। সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। 

হাঁটুর ক্ষয় রোধ করা পুরোপুরি সম্ভব না হলেও নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুষম খাবার খাওয়া হাঁটুর স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার হাড় ও কার্টিলেজকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ প্রতি এক কেজি অতিরিক্ত ওজন হাঁটুতে প্রায় চার কেজি বাড়তি চাপ তৈরি করে। এছাড়া, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম (হাঁটা, সাঁতার বা সাইক্লিং) হাঁটুর পেশী শক্তিশালী করে ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

হাঁটুর ক্ষয়জনিত ব্যথার চিকিৎসা মূলত দুটি পদ্ধতিতে করা হয়; নন-সার্জিকাল ও সার্জিকাল। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ননসার্জিকাল পদ্ধতিতেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে; ওজন কমানো ও নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, কুসুম গরম সেঁক দেওয়া, নি-ক্যাপ ব্যবহার করা, চলাফেরায় হাতে লাঠি ব্যবহার করে হাঁটু্র চাপ কমানো, ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করা এবং ফিজিওথেরাপি নেওয়া। তবে যখন রোগ দীর্ঘমেয়াদী হয়ে যায় এবং ওষুধ বা অন্যান্য উপায়ে ব্যথা না কমে বরং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে, তখন ক্ষয়প্রাপ্ত হাঁটুর তরুণাস্থি সার্জারির মাধ্যমে রিপ্লেস করে ক্যাপ লাগিয়ে দেয়া হয় যা টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (টিকেআর) নামে পরিচিত। বর্তমান বিশ্বে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও প্রমাণিত পদ্ধতি, যেখানে ক্ষয়প্রাপ্ত হাঁটুর জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। গবেষণা বলছে, টিকেআর-এর পর ৯০ শতাংশের বেশি রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যথামুক্ত হন ও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, হাঁটুর ক্ষয়জনিত সমস্যার জন্য সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে, অন্যতম সেরা গন্তব্যস্থল হতে পারে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা। আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার এবং সার্জারি-পরবর্তী ফিজিওথেরাপি সুবিধা ছাড়াও এখানে রয়েছে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞদের স্পেশাল টিম, যারা নন-সার্জিক্যাল থেরাপি থেকে শুরু করে টিকেআর পর্যন্ত সব ধরনের চিকিৎসায় প্রদানে পারদর্শী। 

তাই হাঁটুর ব্যথাকে উপেক্ষা না করে, দক্ষ হাতে সঠিক চিকিৎসা নিন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। 

লেখক:
মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মোঃ আনিছুর রহমান হাওলাদার
সিনিয়র কনসালটেন্ট
অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্ট 
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা



-টিএস/কনসিটিও
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement