রাজনৈতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ পরিবারে জন্ম, শৈশবে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, উচ্চশিক্ষায় আইনকে বেছে নেওয়া এবং শিশু-কিশোরদের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার আগ্রহ- বিভিন্ন পরিচয়ে আলোচনায় এসেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে আলোচনায় উঠে আসছে তাঁর বেড়ে ওঠা, ব্যক্তিগত আগ্রহ, পেশাগত যাত্রা ও সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ততার নানা দিক।
ঢাকায় শৈশব, লন্ডনে উচ্চশিক্ষা
জাইমা জারনাজ রহমানের জন্ম ১৯৯৫ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকায়। তিনি তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তাঁর দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একটি পরিবারে জন্ম হলেও শৈশব থেকেই পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর।
ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন জাইমা। ২০০৮ সালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর লন্ডনে তাঁর শিক্ষাজীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে ঐতিহ্যবাহী আইনি প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের পর আইন ও নীতিবিষয়ক কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
ফুটবল ছিল শৈশবের ভালোবাসা
জাইমা রহমানের পরিচয়ের একটি উল্লেখযোগ্য দিক তাঁর খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ। স্কুলজীবনে তিনি ফুটবল খেলতেন এবং গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর শৈশবের কোচ মোহাম্মদ হাকিমের স্মৃতিচারণেও উঠে এসেছে ফুটবলে তাঁর দক্ষতার কথা।
নিজের শৈশবের একটি স্মৃতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন জাইমা। প্রায় ১১ বছর বয়সে স্কুল ফুটবল দল একটি টুর্নামেন্ট জেতার পর পাওয়া পদকটি তিনি দাদি খালেদা জিয়াকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। গোলরক্ষক হিসেবে নিজের পারফরম্যান্সের গল্প শোনানোর স্মৃতিও তিনি ভাগ করে নেন।
ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সেই সম্পর্ক পরবর্তী সময়েও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) গিয়ে নারী ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে নামেন তিনি। সতীর্থের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর বাঁ পায়ের শটে গোলও করেন। এ সময় ক্রীড়া শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
শিশু-কিশোরদের সঙ্গে সহজ মেলামেশা
বিকেএসপি সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সময় কাটানো। নারী ক্যাডেটদের হোস্টেলে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান জাইমা। তাঁদের জীবনযাপন, প্রশিক্ষণ ও আবাসনব্যবস্থা সম্পর্কেও জানেন। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের বাইরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর ঘটনাটি তাঁর সফরকে আলাদা মাত্রা দেয়।
শিশু-কিশোরদের বিকাশে শিক্ষা, খেলাধুলা ও উপযুক্ত পরিবেশের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর এই অভিজ্ঞতাগুলো প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তবে ব্যক্তিগত মানবিকতা সম্পর্কে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ছবি বা ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক কাজ ও উদ্যোগের দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে আগ্রহ
আইনপেশার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও যুক্ত রয়েছেন জাইমা রহমান। সুবিধাবঞ্চিত ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কাজ করা বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন ও জননীতির মতো বিষয় তাঁর আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত এসব কাজ তাঁর পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত যাত্রা
আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে জাইমা রহমানের। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের খবর সামনে আসে।
এই দায়িত্ব তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অবদান কেমন হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কাজের ওপর।
জন্মদিনে প্রত্যাশা
জাইমা রহমানের জীবনযাত্রায় পারিবারিক পরিচিতি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে আইন বিষয়ে শিক্ষা, খেলাধুলার স্মৃতি এবং সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ততা। ফুটবল মাঠে গোলরক্ষক হিসেবে শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনবিষয়ক দায়িত্ব -তাঁর পথচলার বিভিন্ন অধ্যায় তাঁকে নিয়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি শুভকামনা- শিক্ষা, আইন, মানবিক উদ্যোগ ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি যেন নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে পারেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিকাশের সুযোগ বাড়াতে তাঁর সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক- এমন প্রত্যাশা শুভানুধ্যায়ীদের।
শুভ জন্মদিন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
-টিএস