গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের কথা স্থান পেয়েছে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে।
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শিরোনামের গল্পে তাদের অবদানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরা হয়েছে।বইয়ের ২২ নম্বর পাঠে রয়েছে গল্পটি। এতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা তিতুমীর, সূর্য সেন ও প্রীতিলতার কথা বলা হয়েছে। স্থান পেয়েছে ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারের আত্মত্যাগও।
এছাড়া ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদ, ছাত্র মতিউর ও তার মা আনোয়ারা বেগম, সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং অধ্যাপক শামসুজ্জোহার অবদান তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি স্বাধীনতার পর বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শহীদদের কথাও রয়েছে।গল্পে ১৯৮৩ সালের আন্দোলনে সেলিম-দেলোয়ার, ১৯৮৭ সালে নূর হোসেন এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে ডা. মিলন ও জেহাদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।পাঠ্যবইয়ে যেভাবে উঠে এসেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানগল্পে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের ত্যাগের পরও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বৈষম্যও কমেনি।
অধিকার ও বৈষম্যের প্রশ্নে ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথে নামেন। সরকারি বাহিনী নির্মমভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে।এতে বলা হয়, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রংপুরে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়ালে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর সারাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সৃষ্টি হয় বিশাল গণঅভ্যুত্থানের।ঢাকার উত্তরায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণের সময় শহীদ হন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। গল্পে ওয়াসিমকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানুষের অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।এছাড়া গোলাম নাফিজ, নাহিয়ানসহ অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শহীদদের মধ্যে মায়ের কোলের শিশু ও বাবার সঙ্গে খেলতে থাকা কিশোরও ছিল বলে গল্পে তুলে ধরা হয়েছে।গল্পের শেষাংশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গল্প-প্রবন্ধ বিগত বছরেও ছিল। এবার সেগুলো আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে পরিমার্জন করা হয়েছে, যেন তথ্য ও বর্ণনায় কোনো বিকৃতি না থাকে। আশা করি, আগামী বছর শিক্ষার্থীদের হাতে যে বই যাবে, তাতে নির্মোহভাবে ইতিহাসের বর্ণনা থাকবে।’
টিআই