সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তাঁর পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সোমবার রাজশাহীর বাগমারায় এক সহপাঠীর বাড়িতে পূজার নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন চেসি ত্রিপুরা ও তাঁর আরেক সহপাঠী। সন্ধ্যায় সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে দুর্গাপুর এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে চেসির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন।
এদিকে, সোমবার রাতেই হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ওই সময় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান উপাচার্য।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, চেসি ত্রিপুরার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় চিকিৎসকেরা তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেসির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় শয্যার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার পর থেকেই আমরা চেসি ত্রিপুরার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছি। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর পরিবার ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।”
এইচসি/এসএস