প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
আজ মঙ্গলবার সকালে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশে সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে সড়কের দুই পাশে সমবেত হাজারো মানুষের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড; কৃষক কার্ড চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সরকারের পক্ষ থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা কি আমার সঙ্গে আছেন? এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।
এ সময় তিনি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে দেশ গড়ার কাজে একযোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।
রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে তিনি রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা প্রমুখ।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
বাসস/টিআই