আজ ২১ অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নাচোস দিবস। মুচমুচে তিনকোণা ভুট্টার চিপস, গলানো পনির আর ঝাল মরিচের লোভনীয় মেলবন্ধনে তৈরি এই খাবারটি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে অন্যতম শীর্ষ আরামদায়ক খাবার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ কিংবা খেলার মাঠ- সবখানেই এর চাহিদা এখন আকাশচুম্বী।
ক্ষুধার্ত অতিথিদের জন্য তৈরি এক আকস্মিক খাবার
এই খাবারটি কোনো পরিকল্পিত উপায়ে তৈরি হয়নি, বরং এটি ছিল একটি মধুর দুর্ঘটনা। ১৯৪৩ সালে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর পিড্রাস নেগ্রাসের একটি রেস্তোরাঁয় এর জন্ম হয়।
পেছনের গল্পটি বেশ চমৎকার-কাছাকাছি অবস্থিত সামরিক ঘাঁটির কয়েকজন কর্মকর্তার স্ত্রীরা কেনাকাটা শেষে রেস্তোরাঁটিতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় হাজির হন। তখন রেস্তোরাঁটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম এবং মূল রাঁধুনিও উপস্থিত ছিলেন না। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক ইগনাসিও আনাইয়া, যাঁর ডাকনাম ছিল "নাচো", অতিথিদের খালি মুখে ফিরিয়ে দিতে চাননি। তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে রান্নাঘরে থাকা অবশিষ্ট ভুট্টার রুটি কেটে তেলে ভেজে নেন. তার ওপর পনির ও মরিচের টুকরো ছিটিয়ে চুলোয় কিছুক্ষণ গরম করে পরিবেশন করেন।
খাবারটি খেয়ে অতিথিরা এতটাই মুগ্ধ হন যে তাঁরা এর নাম জিজ্ঞেস করেন। ইগনাসিও তাঁর ডাকনাম মিলিয়ে উত্তর দেন- "নাচোসের বিশেষ খাবার"। পরবর্তীতে এটি বিশ্বজুড়ে কেবল 'নাচোস' নামে পরিচিতি পায়।
১৯৪৯ সালে খাবারটি প্রথম রান্নার বইয়ে স্থান পায়। এরপর ১৯৭৬ সালে একটি খেলার মাঠে তরল পনিরের সস ব্যবহার করে এটি বিক্রি শুরু হলে খাবারটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে কেবল পনির আর মরিচ নয়, বরং এটি তৈরিতে মুরগি বা গরুর মাংসের কিমা, শিম, মাখন এবং বিভিন্ন ধরনের চাটনি ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক নাচোস দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁগুলোতে এই খাবারের ওপর বিশেষ মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যপ্রেমীরা ঘরে তৈরি খাবারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এই উদযাপনে শামিল হচ্ছেন।
এফএস