নানা ধর্মীয় আয়োজন, পঞ্চশীল প্রার্থনা ও বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের হাতে চীবর উৎসর্গের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ২৬তম মাসব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব।
সোমবার বিকেলে রাঙ্গামাটি শহরের আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু।
সংঘরাম বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মকীর্তি মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাদাৎ মো. সায়েম, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুকুমার বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক সনদ কান্তি বড়ুয়াসহ বিভিন্ন বিহারের বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ও ভক্তরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান সদ্ধর্মালোচক হিসেবে ধর্মদেশনা দেন সিংহলা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মপাল মহাথেরো এবং স্বধর্ম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত আনন্দ প্রিয় ভিক্ষু। এতে শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পঞ্চশীল গ্রহণ ও মঙ্গলাচরণ শেষে ভিক্ষু সংঘের হাতে চীবর উৎসর্গ করা হয়। এ সময় বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হয়ে রাঙ্গামাটির বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ভিক্ষু সংঘকে চীবর দান করেন।
এর আগে ভোরে পরিত্রাণ পাঠ, পুষ্পপূজা, ভিক্ষু সংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, সংঘদান, ভিক্ষু সংঘের ধর্মদেশনা এবং ভিক্ষুদের পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে উদ্বোধনী সংগীত, দানোত্তম কঠিন চীবর দান ও ধর্মোপদেশের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ফানুস বাতি উত্তোলনের কর্মসূচিও ছিল।
অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধরা মানুষের মধ্যে মুক্তি ও অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেওয়া এবং আগামী দিনগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ধর্মের বর্ষাবাস বা বর্ষাব্রত পালনের সমাপনী পর্ব হিসেবে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার পর কঠিন চীবর দান উৎসব উদ্যাপিত হয়। বৌদ্ধদের অন্যতম পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র চীবর দান করা হয়। এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা চর্চা, দান, সংযম, অহিংসা ও মানবকল্যাণের আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসআই/আরএন