ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আমিনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমিনাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ মোবারক উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর সমর্থকরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার দুলারহাট-চরফ্যাশন আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক জমিসংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ নিতে মোবারক উল্লাহ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্লাহর বাড়িতে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বসতুল্লাহ চৌমুহনীর জন্য একটি টিউবওয়েল দেওয়ার অনুরোধ জানান আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্লাহকে।
এ সময় জিটু নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে ছয়টি টিউবওয়েল বিক্রির প্রস্তাব দিলে মোবারক উল্লাহ তাঁকে ১৮ হাজার টাকা দেন। পরে আরও ছয়টি টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে জিটু তাঁর কাছ থেকে আরও ১৮ হাজার টাকা নেন। এভাবে মোট ১২টি টিউবওয়েলের জন্য ৩৬ হাজার টাকা দেওয়ার পরও গত দুই মাসে মোবারক উল্লাহ টিউবওয়েল কিংবা টাকা—কোনোটিই ফেরত পাননি।
মোবারক উল্লাহর সমর্থকরা জানান, গত রোববার দুলারহাট বাজারের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযুক্ত জিটুকে দেখতে পেয়ে তাঁর পাওনা টাকা ফেরত চান মোবারক উল্লাহ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিটু ও তাঁর সহযোগীরা মোবারক উল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক উল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই দুলারহাট-চরফ্যাশন আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, হামলার ঘটনায় মোবারক উল্লাহর ভাই আনোয়ার উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারীরা দুলারহাট-চরফ্যাশন আঞ্চলিক সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান ওসি।
এসএফ/আরএন