একটি গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই আগুনে দগ্ধ হন পরিবারের তিন সদস্য। হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না কাউকে। গাজীপুরের টঙ্গীতে এ ঘটনায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর এবার মারা গেছে তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিশা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিশার মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার রাতে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা লাল চান মিয়া (৬০) ও মা নাসিমা (৫০) মারা যান।
তানিশার মামা মো. জিহাদ আলী জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে তাঁর ভগ্নিপতি ও বোনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে ভাগ্নি তানিশাও মারা গেছে। হাসপাতালের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। পরিবারটি মাস্টার বাড়িসংলগ্ন ফখরুল হাসানের বাসায় বসবাস করত।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজ হয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। পরে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে লাল চান মিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসিমা ও মেয়ে তানিশা গুরুতর দগ্ধ হন। প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে বাবা-মা এবং পরে মেয়ের মৃত্যু হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান তানিশার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।