ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
জমির বিরোধে রংপুরে বিসর্জন হয়নি দুর্গাপ্রতিমা, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

জমির মালিকানা ও মন্দিরের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে বিজয়া দশমী পেরিয়ে গেলেও রংপুর নগরীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত মন্দিরে প্রতিমা রেখে অবস্থান করছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। পুলিশ গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও বিরোধের সমাধান করতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা দশরথের তিন শতক জমিতে অস্থায়ীভাবে মন্দির স্থাপন করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে চলতি বছর পূজা শেষে কালীপ্রতিমাসহ অন্য প্রতিমা রেখে সেখানে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পূজা উদযাপন কমিটি। এ নিয়ে জমির মালিক দশরথের সঙ্গে কমিটির বিরোধ দেখা দেয়।

বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে জমি খালি করার দাবি জানান। এর প্রতিবাদে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কমল রায়ের নেতৃত্বে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ স্থায়ী মন্দির নির্মাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন।

অন্যদিকে, নিজের জমি ফিরে পেতে প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সড়কের অপর পাশে অবস্থান নেন দশরথ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এতে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাতভর দফায় দফায় বৈঠক করলেও কোনো সমাধান আসেনি।

জমির মালিক দশরথের ভাগনি অনিতা রায় অভিযোগ করেন, তাঁর মামা কমল রায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন। এ সময় সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখন ওই কাগজের ভিত্তিতে জমি কেনার দাবি করছেন তাঁরা।

দশরথের বোন মিনা রায় বলেন, “গতকাল বিসর্জনের সময় তাঁরা কিছু প্রতিমা রেখে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের কথা বলেন। আমরা নিষেধ করে বলেছি, এটি আমাদের জমি। আগে এখানে পূজা হলেও এটি কোনো স্থায়ী মন্দির ছিল না। স্থানীয় কয়েকজন মিলে এতদিন পূজা করেছি। কিন্তু আমাদের জমিতে স্থায়ীভাবে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিইনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় কমল রায় ও তাঁর লোকজন তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং জমি দখলের চেষ্টা করেন।

তবে জমি কেনার বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল রায় বলেন, “২০০৮ সালে জমির বাবদ আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে আমি মামলা করেছি। রায়ও আমাদের পক্ষে আসে। কিন্তু সেই জমি ২০২৩ সালে আবার তাঁর স্ত্রীকে লিখে দেওয়া হয়। আমরা চাই, মন্দিরের জমিটা উদ্ধার হোক।”

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা মিলন চ্যাটার্জি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে এখনো অচলাবস্থা রয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিতে চাইলেও মন্দির খালি করতে রাজি নয়। অন্যদিকে, জমির মালিকপক্ষ সব প্রতিমা সরিয়ে জমি খালি করার দাবি জানাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছে। তবে এখনো প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিরোধের কোনো সুরাহা না হওয়ায় মন্দির এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


 লাবনী ইয়াসমিন / এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement