মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাইফুল হাওলাদার (২১) নামের এক যুবকের ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আবু সাঈদ সৈয়াল (৬৫) ও হৃদয় (২২) নামের দুই ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মাকাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাইফুল ও আবু সাঈদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী রহিম আলী মোল্লা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন মোল্লার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে বুধবার দিবাগত রাতে রহিম আলী মোল্লার সমর্থক মিল্টন মল্লিকের নেতৃত্বে একদল লোক আওলাদ হোসেন মোল্লার কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় একটি মসজিদেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেন সাইফুল হাওলাদার। এ সময় ককটেলের আঘাতে তাঁর ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে আবু সাঈদ সৈয়াল গুলিবিদ্ধ হন এবং হৃদয় মারধরের শিকার হয়ে আহত হন।
আহত সাইফুলের মা পেয়ার বেগম অভিযোগ করেন, রাত চারটার দিকে রহিম আলী মোল্লার সমর্থক মিল্টন মল্লিক দলবল নিয়ে তাঁর ছোট ছেলের বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় গুলিবর্ষণের পাশাপাশি মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রাণভয়ে পালানোর সময় ককটেলের আঘাতে তাঁর ছেলের ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় মিল্টন মল্লিক, মুন্না ও আল-আমিন নামের তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মোজাম্মেল হোসেন সজল / এফএস