মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে বোরকা পরে ছদ্মবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে চালানো এ হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদিকে হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনিতে তাইজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি বোরকা পরে নিজেদের পরিচয় আড়াল করে কালিগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করেন। তাঁদের কাছে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা ছিল। একপর্যায়ে তাঁরা বাজারে হামলা চালান এবং হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত মোতালেব চৌকিদারের দুই ছেলে জহির চৌকিদার ও মহাসিন চৌকিদার গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া হাতবোমার বিস্ফোরণে আজিম, রফিক ও সবুজ আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে হামলাকারীদের একজনকে ধরে ফেলেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। খবর পেয়ে কালকিনি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির নাম তাইজুল ইসলাম বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর কালিগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার কারণ ও এতে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতা এবং পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার সময় একটি দোকানে প্রায় ১২ জন লোক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল, আলামিন ও আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হাতবোমা ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এফএস