বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলেমিশে বসবাস করছেন এবং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব এখন আর শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, বরং তা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে অপশক্তি, ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে খুলনা নগরীর তেলিগাতী এলাকার নেপাল আশ্রম পূজামণ্ডপে আয়োজিত বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় পরিচয় কখনো মানুষের মধ্যে বিভেদের কারণ হতে পারে না; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি আরও জোরদার করতে হবে।
রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রত্যেকে যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপশক্তি যেন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। দল-মত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
হুইপ বকুল বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভালোবাসার চর্চার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। এ উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে।