রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল এবং সরকারের এক কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ মামলাটি করেন একই কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪২৭ ও ৪৪৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি মাহবুব উর রহমান রুহেল বর্তমানে গ্যাসমিন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিঙ্গুলি মৌজায় পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলোও ব্লক কারখানা স্থাপনের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ৩ দশমিক ৭৫ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজের আবেদন করেন রুহেল।
তবে লিজ মঞ্জুর হওয়ার আগেই তিনি প্রতারণামূলকভাবে ও অবৈধ উপায়ে সরকারি জমি দখল করে সেখানে সেমিপাকা কারখানা ও দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ওই জমির অন্তর্ভুক্ত একটি সরকারি পুকুর ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদক জানায়, ওই জমিতে আগে থেকেই একরামুল হক নামে এক ব্যক্তির অনুকূলে কৃষি ও মৎস্য চাষের বৈধ লাইসেন্স ছিল। লিজের মেয়াদ থাকা অবস্থায় বৈধ লিজগ্রহীতার জমি সাবেক এই সংসদ সদস্য জোরপূর্বক দখল করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, বিনা দরপত্রে বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও ২০১৮ সালের মার্চে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের বিশেষ নির্দেশনায় নীতিমালা শিথিল করে গ্যাসমিন লিমিটেডকে মাত্র শূন্য দশমিক ৭৪ একর (৩২ হাজার ১৩০ বর্গফুট) জমি লিজ দেওয়া হয়। জমিটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে এবং প্রতিবছর নবায়নের শর্তে লিজ দেওয়া হয়েছিল।
তবে উপজেলা ভূমি অফিসের সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, লিজ নেওয়া শূন্য দশমিক ৭৪ একর জমির বাইরে আরও ১৫৪ শতক বা ১ দশমিক ৫৪ একর রেলভূমি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করেন মাহবুব উর রহমান। এভাবে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি সরকারের এক কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এসএস