রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
শনিবার রাতে শুরু হয়ে রোববার সকাল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের বাহিনী ১৫টি অঞ্চল, ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও কৃষ্ণসাগর এলাকায় মোট ১ হাজার ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গে তেল স্থাপনাগুলোতে আগুন লাগার ঘটনায় জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানান, হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনাল ও রুচি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। এ ছাড়া রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিকের একটি ডেটা সেন্টারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
এদিকে, ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিয়েভের টানাপোড়েন বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে দায়ী করে সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপের অপেক্ষায় থাকা কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতার কথা বলা হলেও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাঁর দাবি, এক সপ্তাহে দেশটির জ্বালানি, তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ৭৬টি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে মস্কো আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। তাই যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন, যাঁদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ায় যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এফএস