দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সংযোগকারী নতুন ইয়ালু নদী সেতু।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য জানা যায় ।
প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতুটি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর দানদংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু শহরকে যুক্ত করেছে। ২০১১ সালের অক্টোবরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৪ সালে চীনের অংশের নির্মাণ শেষ হয়। তবে উত্তর কোরিয়ার অংশে সংযোগ সড়ক, শুল্ক ও অভিবাসনসংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়ায় এত দিন সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
চীন মূলত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বেইজিং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে সেতু চালুর উদ্যোগও দীর্ঘদিন পিছিয়ে যায়।
নতুন সেতুটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ব্যবহৃত পুরোনো চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সেতুতে রেল ও সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা সীমিত। নতুন সেতুটি এই চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর উত্তর কোরিয়ায় চীনের রপ্তানি বেড়ে ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৭ সালে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আগের পর্যায়ের তুলনায় দুই দেশের বাণিজ্য এখনো কম।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতুও চালু হয়েছে। ফলে চীন ও রাশিয়া দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই উত্তর কোরিয়ার স্থল যোগাযোগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ইয়ালু নদী সেতু শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে চীনের প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সেতুটি চালুর পর বাস্তবে বাণিজ্য কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে সীমান্তনীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতির ওপর।
এফএস