বয়স ৪১, তবু দৌড়ের গতি আর সামর্থ্যে এখনো তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রস্তুত এলিউড কিপচোগে। কেনিয়ার এই কিংবদন্তি ম্যারাথন দৌড়বিদ মেলবোর্ন ম্যারাথনে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন নতুন রেস রেকর্ড। তিন বছর পর ম্যারাথনে শিরোপা জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন দুইবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন।
রোববার (১১ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে কিপচোগের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এর মধ্য দিয়ে আগের রেস রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি ২ সেকেন্ডের ব্যবধানে।
শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কিপচোগে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেশাদার সাইক্লিস্ট জিমি হুইলান প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এরপর গতি বাড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলেন কেনিয়ার এই তারকা। শেষ পর্যন্ত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) পৌঁছে প্রথম হিসেবে দৌড় শেষ করেন তিনি।
জয়ের পর কিপচোগে বলেন, তাঁর শরীর এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার সামর্থ্য রাখে। নতুন প্রজন্মের দৌড়বিদদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে রেস রেকর্ড ভাঙতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে।
মেলবোর্ন ম্যারাথন ছিল এই প্রতিযোগিতায় কিপচোগের প্রথম অংশগ্রহণ। অস্ট্রেলিয়ায় এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০২৫ সালে সিডনি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে নবম হয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বের সাতটি মহাদেশে ম্যারাথন দৌড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেলবোর্নে অংশ নেন কিপচোগে। তাঁর এই অভিযানের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকায় দৌড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
পুরুষদের বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার থমাস ডো ক্যান্টো। তিনি দৌড় শেষ করেন ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে। আর জিমি হুইলান হয়েছেন পঞ্চম।
নারীদের বিভাগে শিরোপা জিতেছেন নিউজিল্যান্ডের ক্যামিল ফ্রেঞ্চ। তাঁর সময় ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৫ সেকেন্ড। অস্ট্রেলিয়ার সিনেড ডাইভার ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে হয়েছেন দ্বিতীয়।
মেলবোর্নের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসা কিপচোগের এই জয় আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বয়স বাড়লেও অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব।
এফএস