রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুরের বিচি, শসা ও সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
বৃহস্পতিবার রাতে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে দুই আসামির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিকভাবে এসব নমুনার উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে আলামতগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হলে মিল পাওয়া যায়।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরদিন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এসব আলামতের মধ্যে ছিল ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখা। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব আলামত পরীক্ষা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন। আলামতগুলোর সঙ্গে তাঁদের ডিএনএর মিল তদন্তে নতুন ফরেনসিক তথ্য যোগ করেছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলের পূর্ণাঙ্গ তাৎপর্য নির্ধারণে তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও বিবেচনায় নিতে হবে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁদের প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
এসএস