ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষক: পুরোনো পদ্ধতি নয়, চাই নতুন দক্ষতা
✎ আফরোজা পারভীন
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম আপডেট: ০৫.১০.২০২৬ ১১:১১ পিএম
X
Advertisement

পৃথিবী ডিজিটাল যুগ পেরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটুকু এগিয়েছে, তা নিয়ে এখনই চিন্তা করার সময় এসেছে। বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পাঠ্যবইনির্ভর। কিন্তু আমরা যদি শ্রেণিকক্ষ, পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি, তাহলে অনেক পিছিয়ে যাব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন শিক্ষা, রোবটিকস, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সবুজ অর্থনীতির প্রসারের ফলে কর্মজগতের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থ জ্ঞান থাকলেই হবে না; তাদের চিন্তা, সমস্যা সমাধান, বিজ্ঞানভিত্তিক যোগাযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার, দলগত কাজ ও পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রায় ৩৯ শতাংশ দক্ষতার পরিবর্তন ঘটতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বড় ডেটা, নেটওয়ার্ক ও সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের শিশুদের বয়সোপযোগী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা, নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও আজীবন শেখার মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শিক্ষককে শুধু তথ্য প্রদানকারী হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক, দক্ষতা উন্নয়নকারী, মূল্যবোধের শিক্ষক এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতকারক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় আমাদের সন্তানেরা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে পারবে না।

কেন শিক্ষকদের নতুন দক্ষতা প্রয়োজন

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও কর্মজগতের চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে। আগে একটি নির্দিষ্ট বিষয় শিখে বহু বছর একই পেশায় কাজ করা সম্ভব ছিল। অথচ এখন প্রযুক্তি ও অর্থনীতির পরিবর্তনের কারণে নতুন পেশা সৃষ্টি হচ্ছে, আবার অনেক প্রচলিত কাজের ধরন বিলুপ্ত বা পরিবর্তিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে শুধু সরকারি বা প্রচলিত চাকরির ওপর নির্ভর করলে টিকে থাকা কঠিন হবে। তারা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, দূরবর্তী কাজ, ডিজিটাল সেবা, গবেষণা, প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে যুক্ত হতে পারে।

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা ও দক্ষতা না থাকলে ভবিষ্যৎ কর্মজগতে টিকে থাকা কঠিন হবে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের অবশ্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

শল্য চিকিৎসক, নার্স, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, আইনজীবী ও বিচারক, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী, কমিউনিটি মোবিলাইজার, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা, দক্ষ কারিগরি পেশাজীবী—যেমন প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, কার্পেন্টার, মেকানিক ও দক্ষ নির্মাণকর্মী—ফায়ারফাইটার ও উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী, শিশু ও প্রবীণদের পরিচর্যাকারী, মনোবিজ্ঞানী, সৃজনশীল শিল্পী, সাংবাদিক, ব্যবস্থাপক, নেতৃত্বের পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের কিছু কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকতে পারে। তবে এসব পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে অনেক পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মী ও কর্মকর্তাদের কাজ প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিও রয়েছে।

এই কারণে বর্তমান শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নতুন কাজ শিখতে পারে, পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে এবং নিজেদের দক্ষতা নিয়মিত উন্নত করতে পারে।

বদলে যাচ্ছে শিক্ষকের ভূমিকা

তথ্যের সহজলভ্যতা শিক্ষকের ভূমিকা বদলে দিয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা গুগল, ইউটিউব, অনলাইন কোর্স, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে বিপুল তথ্য পেতে পারে। ফলে শিক্ষক যদি কেবল বইয়ের তথ্য পড়ে শোনান, তাহলে শিক্ষার্থীর আগ্রহ কমে যাওয়া স্বাভাবিক।

এই কারণে শিক্ষকের মূল ভূমিকা এখন হতে হবে নির্ভরযোগ্য তথ্য নির্বাচন করতে শেখানো। তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি করা, জটিল বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা করা, শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করা এবং শেখা জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া এবং নৈতিক ও দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বাড়ছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, কৃষি, ব্যাংকিং, সাংবাদিকতা ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং শিক্ষকদের এ প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে এর সম্ভাবনা, সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি বুঝতে হবে।

শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষা প্রদানের পদ্ধতি শিখতে হবে। এর মাধ্যমে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, শিক্ষার্থীর স্তর অনুযায়ী অনুশীলনী প্রস্তুত এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়ক উপকরণ তৈরি করা সম্ভব।

ডিজিটাল সাক্ষরতা ও ইংরেজি দক্ষতা

সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষকদের অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতে শিক্ষাসামগ্রী তৈরি ও ব্যবহার করতে পারেন—এমন দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষকেরা যাতে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার মূল্যায়নের জন্য প্রশ্ন ও শিক্ষা উপকরণ তৈরি করতে পারেন এবং সৃজনশীল প্রকল্প ও গবেষণার ধারণা দিতে পারেন, সে বিষয়েও সরকারি প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রয়োজন।

পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে নেওয়া লেখা বা উত্তর যাচাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয়। এ কারণে শিক্ষকদের জানতে হবে, শিক্ষার্থীর কোনো উত্তর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে কি না এবং তা কীভাবে যাচাই করা যায়। তবে শিক্ষার্থীদের এটিও বোঝাতে হবে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চিন্তা, বিচারবোধ, নৈতিকতা ও মৌলিক সৃজনশীলতার বিকল্প নয়।

ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য প্রয়োজনীয়। কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ই-মেইল, ক্লাউড স্টোরেজ, ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন ফর্ম, ডিজিটাল উপস্থাপনা এবং শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দক্ষতা থাকা দরকার।

বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সাক্ষরতা নিশ্চিত করা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষকদের অনলাইনে ইংরেজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

বাংলা ও ইংরেজিতে অনলাইন তথ্য অনুসন্ধান, ওয়ার্ড প্রসেসিং ও উপস্থাপনা তৈরি, স্প্রেডশিটে সাধারণ তথ্য বিশ্লেষণ, অনলাইন ক্লাস পরিচালনা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, ফাইল সংরক্ষণ ও শেয়ারিং, অনলাইন নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা—এসব বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।

প্রযুক্তি-সমন্বিত পাঠদান

প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই শিক্ষা আধুনিক হয় না। প্রযুক্তিকে শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষককে ভাবতে হবে, কোন প্রযুক্তি কোন বিষয় বোঝাতে কার্যকর এবং তা শিক্ষার্থীর শেখার ফল কীভাবে উন্নত করবে।

উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞান ক্লাসে ভার্চুয়াল সিমুলেশন, ভূগোলে ডিজিটাল মানচিত্র, গণিতে অনলাইন অনুশীলন ও গ্রাফ, ভাষা শিক্ষায় অডিও, ভিডিও ও কথোপকথন, ইতিহাসে ডিজিটাল আর্কাইভ ও তথ্যচিত্র, ব্যবসায় শিক্ষায় বাস্তব বাজার বিশ্লেষণ এবং কৃষিশিক্ষায় আবহাওয়া, মাটি ও বাজারদরের তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ ছাড়া ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। শিক্ষার্থীর পরীক্ষার নম্বরই তার সম্পূর্ণ সক্ষমতার পরিচয় নয়। শিক্ষককে উপস্থিতি, শ্রেণিকাজ, প্রকল্প, অংশগ্রহণ, আচরণ ও শেখার অগ্রগতির তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।

এভাবে শিক্ষক বুঝতে পারবেন কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে দুর্বল, কার অতিরিক্ত সহায়তা দরকার, কোন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি কার্যকর, কোন শিক্ষার্থী নেতৃত্ব বা সৃজনশীল কাজে ভালো করছে এবং কোথায় শিক্ষার্থীরা পাঠ বুঝতে পারছে না। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

তথ্য যাচাই ও মিডিয়া সাক্ষরতা

ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য, গুজব, বিভ্রান্তিকর ছবি ও মিথ্যা সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে কীভাবে একটি তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হয়।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শেখানো যেতে পারে—

- তথ্যের উৎস যাচাই করা;
- লেখক বা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষা করা;
- প্রকাশের তারিখ দেখা;
- একই তথ্য একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসে মিলিয়ে দেখা;
- ছবি ও ভিডিওর প্রেক্ষাপট যাচাই করা;
- মতামত ও তথ্যের পার্থক্য বোঝা;
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করা।

যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমস্যা সমাধান

বিশ্ববাজারে শুধু একা কাজ করার দক্ষতা যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দলগত কাজ, আলোচনা, উপস্থাপনা ও সমস্যা সমাধানের কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

শিক্ষার্থীদের শেখানো উচিত—মনোযোগ দিয়ে শোনা, স্পষ্টভাবে কথা বলা ও লেখা, ভিন্ন মতকে সম্মান করা, দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করা, সময়সীমা মেনে চলা, গঠনমূলক মতামত দেওয়া এবং যেকোনো সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা।

মুখস্থ উত্তর ভবিষ্যতের জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং একাধিক সমাধান খুঁজতে হবে। এ বিষয়ে আগে শিক্ষককে জানতে হবে, পরে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকরা স্থানীয় সমস্যার সমাধানভিত্তিক প্রকল্প, পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে গবেষণা, বিদ্যালয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, ছোট ব্যবসার ধারণা তৈরি, সামাজিক সমস্যা নিয়ে বিতর্ক ও সমাধানের পথ খোঁজা, পানি, কৃষি বা স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

এ ধরনের শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা বইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে শেখে এবং বিশ্ববাজারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পায়।

ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা

বর্তমান চাকরি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা ও কাজের জন্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি কার্যকর ইংরেজি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের শুধু ব্যাকরণ মুখস্থ করানো নয়; বাস্তব ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষা শেখাতে হবে।

ইংরেজি ভাষা শোনা, বলা, লেখা ও পড়া—এই চারটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদেরও আগে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে।

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-মেইল লেখা, জীবনবৃত্তান্ত ও কভার লেটার তৈরি, চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, অনলাইন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ, পেশাগত প্রতিবেদন লেখা, উপস্থাপনা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ।

প্রযুক্তিগত ও কর্মমুখী শিক্ষা

সব শিক্ষার্থীকে একই মাত্রায় প্রোগ্রামার হতে হবে—এমন নয়। তবে প্রত্যেকের মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতা থাকা দরকার। আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পথ তৈরি করা যেতে পারে। যেমন—অফিস অ্যাপ্লিকেশন, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন, ডেটা এন্ট্রি ও ডেটা বিশ্লেষণ, প্রোগ্রামিং, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন উদ্যোক্তা কার্যক্রম।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার বিষয়ে শিক্ষকদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ না করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববাজার থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।

কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজগতের সঙ্গে পরিচয় করাতে বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, পেশাজীবীদের অতিথি বক্তৃতা, বাস্তব প্রকল্প, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, চাকরির বাজার বিশ্লেষণ এবং দক্ষতাভিত্তিক সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

উদ্যোক্তা ও আর্থিক দক্ষতা

সব শিক্ষার্থী চাকরি করবে না। কেউ উদ্যোক্তা হবে, কেউ পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করবে, আবার কেউ ফ্রিল্যান্সিং করবে। তাই শিক্ষার্থীদের অর্থ ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়, বাজেট, ঋণ, ঝুঁকি, বাজার বিশ্লেষণ ও ব্যবসায়িক নৈতিকতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে শেখানো দরকার।

বিদ্যালয় পর্যায়েই ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে এসব বিষয় শেখানো যেতে পারে। যেমন—কীভাবে একটি পণ্য বা সেবা নির্বাচন করতে হয়, কীভাবে সম্ভাব্য ক্রেতা চিহ্নিত করতে হয়, কীভাবে খরচ ও লাভ হিসাব করতে হয়, কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্য প্রচার করতে হয়, কীভাবে গ্রাহকের মতামত সংগ্রহ করতে হয় এবং কীভাবে ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমাতে হয়।

সবুজ দক্ষতা ও জলবায়ু শিক্ষা

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকি ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। কৃষি, নির্মাণ, জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব দক্ষতার চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, পানি দূষণ রোধ, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পরিবেশবান্ধব ব্যবসা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা, কার্বন নিঃসরণ কমানোর পদ্ধতি এবং পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার বিষয়ে শেখানো যেতে পারে। এসব দক্ষতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের করণীয়

বাংলাদেশ সরকারের এ বিষয়ে করণীয় অনেক বেশি। জাতীয় শিক্ষা ও দক্ষতা কাঠামো হালনাগাদ করা এখন সময়ের দাবি। সরকারকে শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতির মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব দক্ষতা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান ও কর্মক্ষমতাকেও শিক্ষার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। প্রতিটি স্তরে শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষার ন্যূনতম মান এবং যোগাযোগ ও কর্মদক্ষতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে তা শিক্ষাক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া সবুজ দক্ষতার শিক্ষাক্রম, কর্মমুখী শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপের কাঠামো, দক্ষতা যাচাই ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

একবার প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিন একই অবস্থায় রাখা যাবে না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি চালু রাখতে হবে। প্রশিক্ষণের বিষয় হতে পারে ডিজিটাল পেডাগজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহায়ক শিক্ষা পদ্ধতি, অনলাইন নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীর ডেটা ব্যবস্থাপনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন।

শিক্ষকদের ক্যারিয়ার গাইডেন্স, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক-আবেগীয় শিক্ষা, জলবায়ু ও দুর্যোগ শিক্ষা সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। প্রশিক্ষণকে শুধু বক্তৃতানির্ভর না করে হাতে-কলমে, বিদ্যালয়ভিত্তিক, সহকর্মী-শেখা ও বাস্তব প্রকল্পভিত্তিক করতে হবে।

ডিজিটাল অবকাঠামো ও সমতা

ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমাতে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু কম্পিউটার বিতরণ করলেই হবে না; ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারযোগ্য কনটেন্ট নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যালয়ে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, বিদ্যুৎবিহীন বা দুর্বল বিদ্যুৎ সরবরাহের এলাকায় সৌরশক্তির ব্যবহার, কম খরচে ডিভাইস ব্যবহারের ব্যবস্থা, বাংলা ভাষায় মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্ট, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক প্রযুক্তি, মেয়েশিশু ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সমান প্রবেশাধিকার এবং অফলাইন কনটেন্ট ও কম ব্যান্ডউইডথ প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা দরকার।

এ জন্য সরকারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা, শিল্প সমিতি ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্ববাজারের জন্য প্রস্তুতি

বিশ্বের কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিকুলাম তৈরি করা এখন জরুরি। এতে বাংলাদেশের যুবসমাজের বিশ্ববাজারে কাজের সুযোগ বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশও এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের শিল্পখাতে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও শিক্ষানবিশের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত দরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক ল্যাব ও প্রযুক্তি স্থাপনও এখন সময়ের দাবি।

কর্মসংস্থানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন দক্ষতার পূর্বাভাস তৈরি করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। চাকরিদাতাদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম সংশোধন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার জরুরি।

মান্ধাতা আমলের পুরোনো পদ্ধতিতে শুধু মুখস্থনির্ভর লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা গড়ে তোলা বা যাচাই করা সম্ভব নয়। মূল্যায়নে প্রকল্প, দলগত কাজ, উপস্থাপনা, গবেষণা, সমস্যা সমাধান ও বাস্তব কাজ যুক্ত করতে হবে।

একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়নে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী চিন্তা, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, প্রযুক্তি ব্যবহার, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা, বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং শেখার ধারাবাহিকতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষকদের নিজস্ব দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনা

অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের প্রত্যেক শিক্ষক যাতে নিজের জন্য একটি বার্ষিক দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন এবং প্রাথমিকভাবে নিজের দক্ষতা যাচাই করতে পারেন, সে বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষক নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন—তিনি কি অনলাইন তথ্য যাচাই করতে পারেন? তিনি কি ডিজিটাল উপস্থাপনা তৈরি করতে পারেন? তিনি কি শিক্ষার্থীর ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারেন? তিনি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন? তিনি কি প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা পরিচালনা করতে পারেন? তিনি কি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন?

দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য দক্ষতা নির্বাচন করা দরকার। একসঙ্গে সবকিছু শেখার চেষ্টা না করে প্রতি তিন মাসে একটি বা দুটি দক্ষতা শেখা ভালো। যেমন, প্রথম তিন মাসে ডিজিটাল উপস্থাপনা ও অনলাইন রিসোর্স; পরবর্তী তিন মাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা; তৃতীয় পর্যায়ে প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা এবং চতুর্থ পর্যায়ে ডেটাভিত্তিক মূল্যায়ন শেখা যেতে পারে।

শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, শেখা বিষয় শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করতে হবে। শিক্ষক একটি ছোট প্রকল্প পরিচালনা করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

সহকর্মীদের সঙ্গে শেখার ছোট দলও তৈরি করা যেতে পারে। প্রত্যেকে মাসে একটি করে নতুন ডিজিটাল টুল, পাঠদান পদ্ধতি বা শিক্ষাসামগ্রী সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।

এরপর ফলাফল পর্যালোচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, কাজের মান, উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস ও শেখার অগ্রগতি দেখে বুঝতে হবে কোন পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে।

নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তি

ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ফলাফল ও পরিচয় অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না। প্রতিটি শিক্ষকের জানা দরকার এবং শিক্ষার্থীদেরও শেখানো দরকার—কীভাবে অনলাইন হয়রানি, সাইবার অপরাধ, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ভুয়া তথ্য থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি নীতি অনুসরণ করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্তর যাচাই করা, নকল বা সম্পূর্ণ কপি করা নিরুৎসাহিত করা, ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং মানবিক বিচার ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া।

প্রযুক্তির সুবিধা থেকে দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া যাবে না। প্রযুক্তি যেন বৈষম্য বাড়ায় না, বরং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত করে—এটাই হওয়া উচিত সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রতারণা সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন করতে পারেন। বিশেষ করে অভিভাবক সভায় কম শিক্ষিত অভিভাবকদেরও এসব বিষয়ে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।

শেষ কথা

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষকের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু প্রযুক্তি নয়; বরং প্রযুক্তিকে মানবিক, সৃজনশীল ও শিক্ষাবান্ধবভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা। প্রযুক্তির অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা জরুরি।

একজন আধুনিক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নয়, বরং জীবন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, গবেষণা ও সামাজিক দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করবেন।

বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বড় ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ, সহযোগিতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও আজীবন শেখার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিক দক্ষতার সমন্বয়কে ভবিষ্যৎ কর্মজগতের জন্য গুরুত্ব
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement