নির্মাণসামগ্রীর বাজারদরের সঙ্গে সরকারি এস্টিমেটের দরের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলে খুলনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৪৯ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকাদাররা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খুলনা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় না করে বর্তমান এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ নিলে ঠিকাদারদের বড় ধরনের লোকসান হবে।
সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কারে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব কাজের টেন্ডার আগামী ৭ অক্টোবর আহ্বান করা হয়েছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি এস্টিমেটে এক ব্যারেল বিটুমিনের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ঠিকাদারের হিসাবে এ দাম প্রায় ১২ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে দেড়শ কেজির এক ব্যারেল বিটুমিনের বাজারদর প্রায় ১৯ হাজার টাকা।
তাদের দাবি, পাথরের দাম গত বছর টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে পরিবহন খরচ বাদে তা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ইটের দাম প্রতি হাজারে ৯-১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২-১৩ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে কয়লার দাম টনপ্রতি ১৭ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা এবং বালুর দাম প্রতি ঘনফুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নির্মাণসামগ্রী ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে বলে তারা জানান।
লিখিত বক্তব্যে শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলজিইডির ঠিকাদাররা সরাসরি যুক্ত থাকলেও মাঝারি পর্যায়ের ঠিকাদারদের জন্য ব্যাংক ঋণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, অথচ সরকারি এস্টিমেটে এর প্রতিফলন নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করলে ঠিকাদারদের শতভাগ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উন্নয়নকাজের এস্টিমেট রেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে আগামী ৭ অক্টোবরের টেন্ডার বর্জন করতে বাধ্য হবেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আজগর আলী খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর ফকির, কোষাধ্যক্ষ এস এম সালাউদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/এসএস