ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, সেবা যেন তলানিতে—৩০ বছরেও কাটেনি পিরোজপুরের দুর্ভোগ ‎
‎ভাঙাচোরা সড়ক, সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব—বাড়ছে জনভোগান্তি
✎ ‎অবজারভার ডিজিটাল ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪০ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

‎পিরোজপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ার তিন দশক পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি পিরোজপুর পৌরসভা। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই পৌর শহরে ভাঙাচোরা সড়ক, সুপেয় পানির সংকট, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব এবং খাল দখল-ভরাটসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানি বিল পরিশোধ করেও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
‎
‎১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে পিরোজপুর পৌরসভা। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি ও জনসংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় নাগরিক সেবার অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হয়নি। শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে এসব সড়কে পানি জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
‎
‎পুলিশ লাইন্স ও বলাকা সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেরও একই চিত্র। স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পৌরসভার প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্কের বড় একটি অংশের সংস্কার প্রয়োজন বলেও জানান তারা।
‎
‎সড়কের পাশাপাশি শহরের অন্যতম বড় সংকট সুপেয় পানি। অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ হয় না। কোথাও কোথাও ব্যবহারযোগ্য পানিও পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। অথচ পানি বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
‎
‎পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মামুন হোসেন বলেন, “প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও মনে হয় দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অজপাড়াগাঁয়ে বাস করছি। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে মাছ চাষের অবস্থা হয়। পানির বিল ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু সুপেয় পানি তো দূরের কথা, ব্যবহারের পানি পেতেও হিমশিম খেতে হয়।”
‎
‎মাছিমপুর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও রাজনীতিবিদ আল আমিন বলেন, পৌরসভাকে নিয়মিত কর দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। পৌরবাসীর চাহিদার তুলনায় পানি সরবরাহ কম। বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তার অভিযোগ, ৮ নম্বর সড়কটি প্রায় ২০ বছর ধরে সংস্কার হয়নি।
‎
‎তিনি আরও বলেন, জেলা হাসপাতালের চারপাশের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে। এতে মশার উপদ্রব বাড়ছে এবং ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মশার উপদ্রবও বাড়ছে। চলতি বছর সরকারি তথ্যমতে পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
‎
‎পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ও আলমগীর হোসেন বলেন, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও নাগরিকরা সে অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, অতীতে সাবেক জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম খান কিছু সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না।
‎
‎পৌরবাসীর এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক গণমাধ্যমকে বলেন, মূলত বাজেট সংকটের কারণে একযোগে সব কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সড়ক, পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে শিগগিরই দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
‎
‎তবে পৌরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার কথা শুনে আসছেন তারা। আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। তাদের দাবি, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নিরাপদ পানি সরবরাহ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দখলমুক্ত খাল উদ্ধার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী উদ্যোগ নিতে হবে।
‎
এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement