
সংগৃহীত ছবি
দেশে আমদানি ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়েনি। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দেশের আর্থিক হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও ঘাটতি বেড়েছে। তবে প্রবাসী আয় বাড়ায় চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে বৈদেশিক লেনদেনের এ চিত্র উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে আমদানি ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২২০ কোটি ডলার। বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার। ফলে এ দুই মাসে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় ৩৮২ কোটি ডলার বেশি হয়েছে।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৮৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আসা-যাওয়া ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো ব্যালান্স অব পেমেন্ট বা বিওপি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল মাত্র ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক লেনদেনের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দেশের আন্তর্জাতিক সম্পদের মালিকানায় পরিবর্তন এবং বৈদেশিক অর্থের প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় আর্থিক হিসাবে। এ হিসাবে ঘাটতি তৈরি হলে সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিময় হারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ১১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হিসাবে ঘাটতি ছিল ২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।
বাণিজ্যঘাটতি বাড়লেও প্রবাসী আয় বাড়ায় চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে ৪০ কোটি ২০ লাখ ডলার।
ব্যালান্স অব পেমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো চলতি হিসাব। এতে পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিদেশ থেকে পাওয়া আয় এবং প্রবাসী আয়সহ নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো এসব লেনদেনে দেশের বৈদেশিক আয় ব্যয়ের তুলনায় বেশি রয়েছে।
চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৪৯০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ দুই মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধিই মূলত বাণিজ্য ঘাটতির চাপ সামলে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত রাখতে সহায়তা করেছে।
টিআই