সরবরাহ বাড়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। প্রতি ব্যারেল নেমে এসেছে ১০১ মার্কিন ডলারে। জি৭ জোটের দেশগুলো মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের ফিউচার প্রতি ব্যারেল ৫১ সেন্ট বা ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭২ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এর দাম ছিল ১০২ দশমিক ২৫ ডলার।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের নভেম্বরের ফিউচার ৯২ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে।
আগের দিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছিল ৯১ দশমিক ১১ ডলার।
১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে জি৭
গত ২ অক্টোবর জি৭-এর নেতারা অনলাইনে বৈঠক করেন। বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর অংশ হিসেবে চার মাসে মোট ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি মজুত থেকে বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জি৭। এর লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম নিয়ে চাপ কমানো।
জি৭ দেশগুলো নিজেদের তেল শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও সমন্বয় করবে। এতে একই সময়ে একাধিক শোধনাগার বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
সম্ভব হলে কিছু শোধনাগারে উৎপাদনও সাময়িকভাবে বাড়ানো হবে।
জি৭ আরও জানিয়েছে, যেসব দেশের তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বেশি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে ডিজেলের বাজারে চাপ কমাতে এসব দেশে পরিশোধিত জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
জি৭ সদস্য ও তাদের অংশীদার দেশগুলো প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়তে পারে।
প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল মজুত থেকে বাজারে ছাড়া হবে কি না, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ মূল্যায়ন করবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও বাড়ছে নজর
জি৭-এর বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যৌথভাবে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এ কারণে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও এখন তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারেও চাপ তেলের দামে
তেলের দাম কমার আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা। বাজারে এখন ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেড চলতি মাসের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। বাজারের হিসাবে, এ সম্ভাবনা ৮০ শতাংশের বেশি।
তবে বছরের শেষ বৈঠকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে-এমন প্রত্যাশাও রয়েছে। সুদের হার বেশি থাকলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে জ্বালানির চাহিদাও কমার আশঙ্কা থাকে। ফলে ফেডের সম্ভাব্য কঠোর নীতি তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
উৎপাদন বাড়াবে না ওপেক প্লাসের সাত দেশ
তবে তেলের দাম কমার গতি কিছুটা ঠেকিয়ে রেখেছে ওপেক প্লাসের সাতটি দেশের উৎপাদন না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। নভেম্বরে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়াবে না।
চুক্তি অনুযায়ী, নভেম্বরে সৌদি আরবের দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৪৮ লাখ ব্যারেল এবং রাশিয়ার ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরাকের জন্য দৈনিক ৪৩ লাখ ব্যারেল, কুয়েতের ২৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল এবং কাজাখস্তানের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলজেরিয়ার জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল এবং ওমানের জন্য ৮ লাখ ৪১ হাজার ব্যারেল।
দেশগুলো অক্টোবরের পর উৎপাদন বাড়ানোর পরিবর্তে সেপ্টেম্বরে যে মাত্রায় উৎপাদন করেছিল, নভেম্বরে সেই মাত্রা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওপেক প্লাস প্রতি মাসে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। পরবর্তী বৈঠক ১ নভেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু আজেন্সি
টিআই