ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবাই বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির জন্য হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাকনেজাদের পদত্যাগের কোনো কারণ জানানো হয়নি।
সরকার-নিয়ন্ত্রিত ও তেল উত্তোলনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ বোভার্দকে সাময়িকভাবে ইরানের ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী মূল চেয়ারে বসেন মহসেন পাকনেজাদ।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য তেল রপ্তানির ঝুঁকির মাঝে তাকে পদ সরে দাঁড়াতে হলো। বিস্ময়কর বিষয় হলো, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক খবরের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পূর্বেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক বিশেষ বক্তব্যে তেল বিক্রি নিয়ে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন মহসেন পাকনেজাদ।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাধা ও অবরোধের মধ্যেও তেল বিক্রির অর্থ যথাসময়ে ইরানের অর্থনীতিতে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি কেন পরিবর্তিত হলো এবং তিনি ঠিক কী কারণে স্বেচ্ছায় পদ ছেড়েছেন বা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তেহরান থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধ, ক্রমাগত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের জের ধরেই এমন আকস্মিক রদবদল ঘটতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এসএ