ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনর্দখলে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি। রোববার (৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
আল-আলিমি বলেন, দেশের পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য সামরিক ইউনিটকে অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানের সব সুযোগ শেষ হওয়ার পরই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার সাধারণ মানুষকে অভিযানের লক্ষ্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। সানা, সাদা ও হোদেইদাসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে হুথিদের সামরিক সমাবেশ ও অবস্থান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান আল-আলিমি।
ইয়েমেনের এই ঘোষণার আগে দেশটির সরকারি বাহিনী হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, সানা, সাদা, মারিব, আল-জাওফ, আল-বাইদা ও লাহিজসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৫৭টি নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় হুথিদের সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদাম, কমান্ড সেন্টার এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা হয়।
সরকারি বাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে অন্তত ৭০০ হুথি সদস্য নিহত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু সামরিক যান ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হুথিরাও পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর দুটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানানো হয়েছে। সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইজসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন অঞ্চল ঘিরে সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এফএস