চট্টগ্রামের কালুরঘাট পয়েন্টে কর্ণফুলী নদীর ওপর প্রস্তাবিত রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সেতুটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, গাণিতিক মডেলিং, দরপত্র প্রক্রিয়া, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ত্রুটি দায়কালীন সেবা প্রদানের জন্য আহ্বান করা দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি যৌথ উদ্যোগের কারিগরি প্রস্তাব যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের ক্রয় শাখা থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আরএফপি নম্বর পিডি/কেআরআরবিসিপি/আরএফপি/২০২৬-এর আওতায় গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা দরপত্রের বিপরীতে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন করে। এতে চারটি যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজনীয় কারিগরি স্কোর অর্জন করে কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকার রেলভবনের ৭ম তলায় ৮২৫ নম্বর কক্ষের যমুনা সম্মেলন কক্ষে যোগ্য চারটি যৌথ উদ্যোগের আর্থিক প্রস্তাব প্রকাশ্যে খোলা হবে।
কারিগরি মূল্যায়ন শেষে আর্থিক প্রস্তাব খোলার পর্যায়ে পৌঁছানো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর্থিক প্রস্তাব খোলার পর নির্ধারিত নিয়মে পরবর্তী মূল্যায়ন ও সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট পয়েন্টে রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মাণের জন্য বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, গাণিতিক মডেলিং, দরপত্র প্রক্রিয়া, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ত্রুটি দায়কালীন সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ের সড়ক ও রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা এবং কক্সবাজারমুখী রেল যোগাযোগে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন রেলপথ ও সেতু অবকাঠামোর সঙ্গে কক্সবাজারমুখী রেল যোগাযোগকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিষয়টিও প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। চূড়ান্ত নকশা, রেললাইন সংযোগ ও বাস্তবায়ন কাঠামো অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই সেতুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতু বাস্তবায়িত হলে যানবাহন চলাচল, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প এবং পর্যটন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চারটি যৌথ উদ্যোগের কারিগরি প্রস্তাব যোগ্য বিবেচিত হয়ে আর্থিক প্রস্তাব খোলার পর্যায়ে পৌঁছানোয় দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত কালুরঘাট সেতু প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম আরও এগিয়ে গেল।