বিয়ের বাড়িতে চলছিল আনন্দ-উৎসব। স্বজনদের ভিড়, অতিথি আপ্যায়ন আর হাসি-গল্পে মুখর ছিল বাড়ির পরিবেশ। এর মধ্যেই পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আনন্দের বাড়ি পরিণত হয় শোকের বাড়িতে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের আরাজি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো—বদরগঞ্জ উপজেলার চম্পাতলী মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের রুপা রানী (১০) এবং তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের কাচনা গ্রামের পঞ্চমী রানী রায় (৮)। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো বোন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আরাজি গ্রামের রতন চন্দ্র রায়ের বিয়ে হয় তারাগঞ্জের কাংলাচড়া গ্রামে। বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের স্বজনরা সেখানে জড়ো হন। রতনের বোন ওমালা রানী তাঁর মেয়ে রুপাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। একইভাবে রতনের বড় ভাই অজয়ের শ্যালিকা মিনতি রানী রায় তাঁর মেয়ে পঞ্চমীকে নিয়ে বিয়েবাড়িতে আসেন।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও বুধবার বাড়িতে উৎসবের আমেজ ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে রুপা ও পঞ্চমী বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময়েও তারা ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আরাজি গ্রামের সুধীর রায়ের পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। বিকেল ৩টার দিকে পানির নিচ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ দুটি বাড়ির উঠানে পাশাপাশি রাখা হলে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। দুই শিশুর মায়েরা মেয়েদের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রুপার মা ওমালা রানী বলেন, “মামার বিয়েতে আনন্দ করবে বলে মেয়েকে সঙ্গে করে এনেছিলাম। এখন মেয়ের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে—এ কষ্ট কীভাবে সহ্য করি?”
পঞ্চমীর মা মিনতি রানী বলেন, “বিয়ের খুশি আমার কপালে এমন দুঃখ আনল। আমার মেয়েটা আর কথা কওছে না। আমি ওর বাপকে কী জবাব দিম?”
স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, “বিয়ে বাড়িতে এসে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এলওয়াই/আরএন