আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার রংপুরে দেওয়া বক্তব্যেও প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে ৬ জুন পর্যন্ত চলবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন। কোন নির্বাচন কখন হবে, সেই সময়সূচি নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে।
বুধবার কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ৬ জুনের মধ্যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিত্ব ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই নির্বাচন আয়োজনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ তখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কমিশন আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের আলোচনার পর আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচনগুলো শেষ করার কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম, বিতর্ক বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় সরকার নিতে চায় না।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের ‘কলঙ্কিত অধ্যায়’ তৈরি হোক, সরকার তা চায় না। এ জন্য প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি প্রয়োজন। নির্বাচনের সময় ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনকেন্দ্র এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয় থাকবে। তবে নির্বাচন পরিচালনা ও সময়সূচি নির্ধারণের সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন নিয়ে এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কোন ক্রমে এবং কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। জেলা পরিষদের নির্বাচনও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে দেশে সার বিতরণ নিয়ে চলমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কয়েকটি এলাকায় সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, যেসব এলাকায় ওই রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন, সেসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সার লুট, সার না পাওয়া কিংবা বিতরণে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সার নিয়ে যে কলঙ্ক শুরু হয়েছে, সেটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্র।’ তাঁর অভিযোগ, কৃষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি এবং সরকারকে বিব্রত করতেই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
তবে সার নিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের এই বক্তব্য প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখযোগ্য; অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তিনি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট যাতে কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সরকার নজর রাখছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে যাতে সার নিয়ে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে জন্য সরকার কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে সার বিতরণে কোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কোথাও সরবরাহে ঘাটতি থাকলে তার কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপরও জোর দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন শুধু ভোট গ্রহণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রার্থী, ভোটার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বয় জড়িত।
সাম্প্রতিক এক আইনশৃঙ্খলা সভায়ও তিনি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু হলে কয়েক মাসের মধ্যেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে ধারাবাহিকভাবে ভোট আয়োজন করতে হবে। ফলে নির্বাচন কমিশনকে সময়সূচি প্রণয়ন, নির্বাচনী এলাকার প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে পর্যায়ক্রমে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হোক এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের অনাস্থা বা বিভ্রান্তি তৈরি না হোক।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং কৃষকদের সার সরবরাহ। দুই ক্ষেত্রেই সরকার মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষকদের সার সরবরাহ এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এফএস