‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি, সাগরের ঢেউয়ে চেপে, নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো’ শুধু একটি গান নয়, একাধিক প্রজন্মের স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নাম মৌসুমী ভৌমিক। ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিভিন্ন সময়েই নতুন অর্থ পেয়েছে গানটি।
তুমুল জনপ্রিয় এই গানের স্রষ্টা-গায়িকা অবশ্য এর আর্থিক সুফল খুব একটা পাননি। সম্প্রতি ‘হাউ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মৌসুমী বলেন, গানটির জন্য তিনি কোনো অর্থ পান না। যথাযথ রয়্যালটি পেলে একটি গানই হয়তো তার জীবনের আর্থিক নিশ্চয়তার জন্য যথেষ্ট হতো।
নিজের অন্য গানগুলোর তুলনায় ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’র বেশি জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তো শুধু একটা গান তৈরি করিনি। অনেক গানই আছে, সেগুলো অনেকেই শোনেন।” লন্ডনে কাজ করা তার বন্ধু অলিভারের মন্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। বন্ধুটি গানটির তুলনা করেছিলেন এল্টন জনের ‘ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড’-এর সঙ্গে এবং বলেছিলেন, এর জন্য যথাযথ অর্থ পেলে মৌসুমীকে আর কিছু ভাবতে হতো না।
কপিরাইটের বিষয়ে মৌসুমী বলেন, “আমি কিছু করিনি, করা দরকার। অনেকে বকাঝকাও করে, করছি না বলে। করব কোনো একদিন।”
গানটির আরেকটি লাইন ‘তোমাদের ভালোবাসা এখনো গোলাপে ফোটে’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যুদ্ধ, সহিংসতা ও মানুষের বঞ্চনার মধ্যেও আশাবাদী থাকার কথা বলেন তিনি। তার ভাষায়, “আশা তো রাখতে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে। আমার কাছে আর কোনো অস্ত্র নেই; আমার অস্ত্র এটুকু আমি বিশ্বাস করব, প্রত্যয় থাকবে।”
মানুষে মানুষে বাড়তে থাকা ঘৃণা নিয়েও তার অবস্থান স্পষ্ট। মৌসুমী মনে করেন, পরস্পরের জীবনকে জানার ও বোঝার সুযোগ তৈরি হলে ঘৃণা কমতে পারে। “পরস্পরকে আমরা যত জানব, তত বুঝতে পারব ঘৃণা ও অবিশ্বাসের চেয়ে অনেক বড় কিছু আছে। ঘৃণা তো ক্ষয় করে, ইটস টক্সিক।”
অর্থের হিসাবে প্রাপ্তি কম হলেও একটি গানের মাধ্যমে অগণিত মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যে মৌসুমী ভৌমিকের কাছে বড় প্রাপ্তি, তার কথাতেই তার ইঙ্গিত মেলে: “অনেক মানুষ শুনেছেন, এটাও কম কিছু নয়।”
এসএস