নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অবৈধ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা ৫টি চুনা ও ১টি ঢালাই কারখানার অবৈধ ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিতাস সূত্র জানায়, সোনারগাঁওয়ের গোলাবাড়ি, পিরোজপুর, প্রতাপেরচর ও ঝাউচর এলাকার ৬টি স্পটে (৮টি পয়েন্টে) এ অভিযান চালানো হয়। এতে ৫টি চুনা কারখানার ১২টি এবং ১টি ঢালাই কারখানার ১টি অবৈধ ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ২০ ফুট এমএস পাইপ এবং ১ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ৩০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়।
তিতাসের হিসাব অনুযায়ী, এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় প্রতি ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৬০০ ঘনফুট গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি গ্যাসের অপচয় ও চুরি রোধ হবে।
তিতাসের এ উদ্যোগ সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশংসনীয় হলেও অভিযানের নেপথ্যে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক একটি চিত্র। বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ভাট্টি ধ্বংস করা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কারখানার মালিকদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় কোনো জেল বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করে খোলা আকাশের নিচে এসব ভাট্টি পরিচালিত হলেও ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মালিকদের গা-ঢাকা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়েছিল কি না কিংবা বিপুল অঙ্কের গ্যাস চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানাগুলোর জমির মালিক ও পরিচালকদের তথ্য সংগ্রহ করে সোনারগাঁও থানায় মামলা ও এফআইআর করা হয়েছে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলা বা প্রচারমুখী উচ্ছেদে সীমাবদ্ধ থাকলে কয়েক দিন পর আবারও এসব অবৈধ ভাট্টি চালু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল অপরাধী ও নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমএইচ/আরএন