ময়মনসিংহে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শামীম মিয়া (৩৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে অটোরিকশা মালিক ও স্বর্ণকার নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরকে (৫০) ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল ও টাকা দাবি করায় তাকে হত্যা করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার শামীম মিয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার জালাল মিয়ার ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ নগরের গলগন্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পিবিআই জানায়, নিহত নিরঞ্জনের খাগডহর এলাকায় চারটি অটোরিকশা ছিল। শামীম ওই অটোরিকশার গ্যারেজ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। এ সুবাদে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে নিরঞ্জন নিয়মিত শামীমের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে শামীমের বাসায় এক নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শামীমকে ব্ল্যাকমেইল করে তিনি টাকা দাবি করতে থাকেন।
পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীমের খাগডহরের ভাড়া বাসায় যান নিরঞ্জন। সেখানে টাকা দাবি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন শামীম।
হত্যার পর মরদেহটি চটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাতে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে ড্রামটি ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ী স্লুইস গেটের কাছে একটি নির্জন খালে ফেলে দেন শামীম। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ড্রামের ভেতরে থাকা প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন পাওয়া যায়। এর সূত্র ধরে যোগাযোগ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী ও ছেলে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাসা থেকে নিখোঁজ হন। ২৩ সেপ্টেম্বর স্লুইস গেটের পাশে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
-টিএস