চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করে তা সীমিত পরিসরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। অতীতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে রাতের শেষভাগে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য মণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজরদারি করতে বলা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে বিশেষ তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈধ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সহযোগিতা করবে।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্নের লক্ষ্যে বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যশোরে এবার গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর ৭০৯টি মণ্ডপে পূজা হলেও এবার এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৭টিতে।
-টিএস