ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রাখার অভিযোগ, সিসিইউতে মিডওয়াইফ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম আপডেট: ২৫.০৯.২০২৬ ২:০২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতর গজ (মব) রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর গত চার মাস ধরে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন বিথী আক্তার নামে এক ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী বিথী আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাপ মণ্ডলের মেয়ে। বর্তমানে তিনি জামতলা হাট এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন।

বিথী আক্তার জানান, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। তার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা তার পেটের ভেতর গজ রেখে দেন। পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুই মাস পর তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

বিথী বলেন, “আমি একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ। আমার পড়াশোনা শেষ হয়েছে। ইন্টার্নশিপ করতে পারিনি, লাইসেন্সও নিতে পারিনি। গত ৬ মে আমার সিজার হয়। তখন চিকিৎসকরা আমার পেটের ভেতর গজ রেখে দেন। আমি একজন মিডওয়াইফ হয়েও যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?”

তিনি আরও বলেন, “দুই মাস পর আবার অপারেশন করতে হয়। সেটি ছিল খুবই বড় ধরনের অস্ত্রোপচার। আমাকে সিসিইউতে থাকতে হয়েছে। পেটের নাড়ি পচে যায়। তখনই বাইপাস সার্জারি করা হয়। এরপর আরও দুই মাস পর আবার হাসপাতালে এসে আরেকটি সার্জারি করাতে হয়েছে।”

চার মাস ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বিথী বলেন, “গত চার মাস ধরে আমার ওপর দিয়ে ঝড় যাচ্ছে। এখন আমি সিসিইউতে ভর্তি। আমার হার্টের সমস্যাসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। আগে আমার ওজন ছিল ৬১ কেজি, এখন ৩৯ কেজি। চার মাস ধরে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছি না। বাচ্চাকে ধরতে তো দূরের কথা, সে কান্না করলে ঘরে শুয়ে শুয়ে কাঁদি। আমি বাঁচব কি না, জানি না।”

আবেগাপ্লুত বিথী বলেন, “আমি মারা গেলে আমার সন্তানের কী হবে? আমি মা-বাবার বড় সন্তান। আমি মারা গেলে পরিবারের হাল কে ধরবে? আমার সাজানো পরিবার, স্বপ্ন ও জীবন। সবই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

বিথী আরও জানান, ঘটনার পক্ষে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক হিসেবে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেন।

এদিকে বিথীর পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাজুল ইসলাম / এফএস 
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement