ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী ভোজ্যতেল, উল্টো খাতুনগঞ্জে মণপ্রতি বাড়ল ৩০০ টাকা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমলেও দেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার সুবিধা দেশের সাধারণ ভোক্তা না পেলেও, উল্টো যোগান ঘাটতির অজুহাতে খাতুনগঞ্জের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’-এর আগস্টের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম এপ্রিল-জুন মেয়াদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১,১০৭.৩৩ ডলার, যা এপ্রিল-জুন মেয়াদের (১,১২৮.৬৭ ডলার) তুলনায় প্রায় ১.৯ শতাংশ কম। একইভাবে, একই মেয়াদে সয়াবিন তেলের গড় দাম টনপ্রতি ১,৭২১.৩৩ ডলার থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১,৬৭৮.৬৭ ডলারে—অর্থাৎ দাম কমেছে প্রায় ২.৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই স্বস্তিদায়ক চিত্রের বিপরীতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭,৫০০ টাকায় এবং পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৬,৬০০ টাকায়। এ ছাড়া সুপার পাম তেলের দর ঠেকেছে ৬,৮০০ টাকায়। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র দেড় মাস আগেও সেখানে সয়াবিন তেলের দর ছিল প্রায় ৭,২০০ টাকা মণ। এই স্বল্প সময়ে সয়াবিন ও পাম—উভয় তেলের দামই মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪.২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

পাইকারি বাজারে তেলের দরবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল জানান, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এবং ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো যোগান না পাওয়ায় দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও পূর্বের উচ্চ দামে কেনা আমদানিকৃত তেল বাজারে থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পাইকারি দামে তার প্রভাব পড়ে না। খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন জানান, বিশ্ববাজারের সাথে দেশীয় পাইকারি দামের হিসাব মেলাতে হলে কেবল টনপ্রতি আমদানি মূল্য নয়, বরং ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহনের আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী গত জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে মোট ৬৫,৯৫৬ টন ভোজ্যতেল ছাড়করণ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০,৮৯৬ টন পাম তেল (প্রায় ৭৭.১ শতাংশ) এবং ১৫,০৬১ টন সয়াবিন তেল (প্রায় ২২.৯ শতাংশ) আমদানি করা হয়।

উল্লেখ্য, স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকা ও খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকা করার পর, গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাজারের এই অযৌক্তিক দরবৃদ্ধি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সামনে পবিত্র রমজান মাস। এখন থেকেই বাজার অস্থির করার জন্য কোনো অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা সরকারের কড়া নজরদারিতে আনা দরকার। বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রকৃত সুফল যেন সাধারণ ভোক্তারা পান, সেজন্য পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়কে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা উচিত।’

এসএ
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement