ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় দলটি ৩৫৫টি আসন পেয়েছে, যা তাদের আগের সর্বোচ্চ ৩৪৩ আসনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিন ভোটগ্রহণের পর সোমবার ফল ঘোষণা করা হয়। এটি ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।
তবে নির্বাচনটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। যুদ্ধবিরোধী ও ক্রেমলিনবিরোধী অনেক প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। যুদ্ধের বিরোধিতা করা ইয়াবলোকো পার্টিকেও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। দলটি কোনো জাতীয় আসন পায়নি।
ফলাফলে কমিউনিস্ট পার্টি ৪০টি, এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন পেয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের নভগোরোদ আঞ্চলিক পার্লামেন্টে অবশ্য ইয়াবলোকো প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।
নির্বাচনের শেষ দিনে রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, মস্কো অঞ্চলের দিকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলার কথা জানিয়েছে।
নির্বাচনের ফলকে পুতিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ফলকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি রাশিয়ার জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে ক্রেমলিন। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো সমালোচনা করেছে।
এফএস