গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টাইন ভক্তদের বিদায় জানাতে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামবেন তিনি। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে এই মহাতারকার বিদায়ী ম্যাচ।
৩৯ বছর বয়সী মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে যখন বিশ্ব ফুটবল সরগরম, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনা শিবিরে বাজল আরেকটি বিদায়ের সুর। মেসির সতীর্থ ও বিশ্বকাপজয়ী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও ইঙ্গিত দিয়েছেন—মেসির সাথেই হয়তো তিনি ইতি টানবেন নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে বুয়েনস এইরেসের এজেইজা বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৩৪ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক। তাগলিয়াফিকো স্পষ্ট করে বলেন, “ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে পৌঁছে গেছি। তাই যতটুকু সম্ভব প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কখন শেষ সময় এসে যাবে, কেউ জানে না।”
মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাগলিয়াফিকোর কণ্ঠে আবেগ ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, “এ ধরনের বিদায় সবসময়ই কঠিন। কিন্তু বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে। আজ হোক বা কাল, এই দিন আসতই। ম্যারাডোনার বিদায়ের পর যেমন আর্জেন্টিনা ফুটবল আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, মেসির পরও আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে টানা দুই দশক দলে পেয়েছি। এখন সামনে কী আসছে, তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দল হিসেবে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে হবে। বিষয়টা মেনে নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু আমাদের সামনে এগোতেই হবে।”
উল্লেখ্য, লিওনেল স্কালোনির বিশ্বজয়ী দলের অন্যতম বিশ্বস্ত এই সৈনিক লম্বা সময় ধরে আর্জেন্টিনা রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে একাদশে ছিলেন তাগলিয়াফিকো। এছাড়া ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার এবং ফাইনালিসিমা জয়ে অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন রক্ষণভাগের এই তারকা।
৬ অক্টোবরের বেনিন ম্যাচটি শুধু একজন মহাতারকার বিদায় নয়, বরং বিশ্বকাপজয়ী এই প্রজন্মের একাধিক সৈনিকের লালিত জাতীয় দলের অধ্যায় শেষের একটি স্মারক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের ধাপ পেরিয়ে ২০১৭ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল তাগলিয়াফিকোর। এখন পর্যন্ত আকাশি নীলদের হয়ে ৮৩ ম্যাচ খেলে ১টি গোল করেছেন তিনি।
এসএফ