
সংগৃহীত ছবি
তুরস্ক থেকে নির্বাসিত এক সমাজতান্ত্রিক পরিবারের সন্তান এলিফ এরাল্প এখন বার্লিনের রাজনীতির কেন্দ্রে। জার্মানির রাজধানীর রাজ্য নির্বাচনে তাঁর দল বামপন্থী ‘ডি লিংকে’ সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পর সম্ভাব্য মেয়র হিসেবে সামনে এসেছে তাঁর নাম। তবে মেয়র হতে হলে জোটসঙ্গীদের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে দলটিকে।
মিউনিখে জন্ম নেওয়া এরাল্পের বাবা-মা ১৯৮০ সালের তুরস্কের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জার্মানিতে চলে আসেন। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে বন্ধুদের নিয়ে পোস্টার তৈরির মধ্য দিয়ে তাঁর সক্রিয়তার শুরু।
রাজনীতিতে তাঁর উত্থানও ধীরে ধীরে। ২০১৭ সালে ডি লিংকে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে বার্লিনের রাজ্য পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে দলের পার্লামেন্টারি গ্রুপের উপপ্রধানের দায়িত্ব পান। আইন নিয়ে পড়াশোনা করা এরাল্প এক দশকেরও বেশি সময় দলটির আইনবিষয়ক পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারে তাঁর অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল আবাসন ব্যয় কমানো। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, আরও বেশি আবাসন পৌর মালিকানায় নেওয়া এবং অভিবাসী ও শরণার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বার্লিনকে অভিবাসনবান্ধব ‘সংহতির শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন।
২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ডি লিংকে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মেয়র নির্বাচিত হতে এরাল্পের দলকে অন্য দলের সঙ্গে জোট করতে হবে।
এরাল্পের প্রচারণার সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রচারণারও তুলনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে আবাসন ব্যয় কমানো, সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলা ও সহজলভ্য নগরজীবনের বার্তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে দুই প্রচারণার মধ্যে মিল রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
তবে সামনে রয়েছে জোট গঠনের পাশাপাশি নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। আবাসন সংস্কার বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ী মহলের সমর্থন এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে ওঠা ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ মোকাবিলা করতে হবে। এসব ইস্যুতে এরাল্পের সম্ভাব্য সরকারকে কী অবস্থান নিতে হয়, সেটিই এখন বার্লিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এফএস