ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তিতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ক্যাথলিক চার্চের আর্চডায়োসিস।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সমঝোতার কথা জানানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৬ নভেম্বর।
নিউইয়র্কের আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস যাজকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী ও তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় প্রত্যেক ভুক্তভোগী অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে পেতে পারেন। তবে নিপীড়নের মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস বলেন, এ সমঝোতার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কিছুটা মানসিক প্রশান্তি ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা করছেন। একই সঙ্গে চার্চ তার ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগ দিতে পারবে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে এক হাজারের বেশি অভিযোগের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী জেফ অ্যান্ডারসন এ সমঝোতাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের সাহস ও দৃঢ়তা এ সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক চার্চে ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও আইনি লড়াই চলছে। ২০০০-এর দশকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বহু ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে চার্চের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত যাজকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে তাঁদের অন্যত্র বদলি করেছিলেন।
এরপর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চার্চ কর্তৃপক্ষকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। চলতি বছরের জুনে সান ফ্রান্সিসকোর আর্চডায়োসিসও প্রায় ৫৩০ জন ভুক্তভোগীকে ৩৯৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়।
নিউইয়র্কের এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হওয়া অন্যতম বৃহৎ ক্ষতিপূরণ চুক্তি। এর আগে ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের আর্চডায়োসিস প্রায় এক হাজার ভুক্তভোগীকে ৮৮০ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছিল।
দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর নিউইয়র্কের এই সমঝোতা ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এফএস