ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ফ্রান্সজুড়ে গণবিক্ষোভের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার প্রায় ১ হাজার
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সজুড়ে গণবিক্ষোভের পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিনের শেষভাগে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে গত সপ্তাহান্তের মতো ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাটের পরিস্থিতি এবার এখন পর্যন্ত এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্কুলগুলোর বেহাল দশার প্রতিবাদে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন শহরে নানা বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবল স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দায়ে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় শত শত মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার প্যারিসে ‘পোর্ত দ’ইতালি’ থেকে ‘পোর্ত দ্য ভিনসেন’ পর্যন্ত একটি পদযাত্রা শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। পদযাত্রার শেষভাগে বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানে সাধারণত সংগঠিত অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত একটি বিশেষ ইউনিটও অংশ নেয়।

কিছু বিক্ষোভকারীকে অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে দেখা যায়। এ সময় মুখোশধারী তরুণদের একটি দল একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙচুর করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরাঁ নুনেজ বলেন, পদযাত্রার শেষ অংশে কয়েক হাজার উগ্রবাদী কর্মী জড়ো হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গাবাজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মার্সেইতে আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাস্তা অবরোধে ধাতব পাত ব্যবহার করা হয়। শহরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যায়। বোর্দোতে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি ভবন থেকে তক্তা খুলে রাস্তা অবরোধে ব্যবহার করেন।

লিওঁ শহরে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরটির এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমাদের দলে প্রায় ১৫০ জন ছিলাম, যাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হঠাৎ করেই কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু হয়। রাস্তায় তখন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

দিনের শেষভাগে নুনেজ জানান, প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, দুজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে এবং অন্যজন মধ্যাঞ্চলীয় ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে আহত হন।

প্যারিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলি নামের এক নারী বিবিসিকে বলেন, মানুষ সত্যিই হতাশ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ম্যাখোঁ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

২৬ বছর বয়সী জেলি বলেন, তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। তারা আমাদের টাকা নিয়ে নেয়, আমাদের ওপর প্রচুর কর চাপায়, অথচ আমরা কিছুই বলতে পারি না। আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি, কারণ অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, আর সহ্য করা যাচ্ছে না।

মুখোশধারী দুই কিশোর বিক্ষোভকারী, যারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি, জানায়, তাদের প্রজন্ম চরম হতাশায় ভুগছে এবং সরকারের কাছ থেকে পুরোপুরি অবহেলিত বোধ করছে।

শনিবারের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমার মনে হয় লুটপাট করাটা মোটেও ঠিক নয়। তবে দারিদ্র্য আর পুলিশের সহিংসতার কারণেই এমনটা ঘটছে। আমাদের দাবিগুলোর জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। আমরা সত্যিই ফ্রান্সে পরিবর্তন চাই।

এদিকে, উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় অর্লেয়ঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

ফ্রান্সের মতো একই ধরনের ইস্যুতে শনিবার ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘অকারণে ঘটানো সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছে। এ ঘটনায় ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী হাজারো বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইতালির মিলানে পুলিশ ও শত শত সেনাসদস্যের সমন্বয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের শহরে জড়ো হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন, জানালার কাচ ভেঙেছিলেন এবং দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছিলেন।

গত সপ্তাহান্তে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এসব বিক্ষোভে জনঅসন্তোষ আরও প্রকাশ পায়। এর পরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রথম দিকে বিক্ষোভ মিছিলগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সেগুলোর একাংশ সহিংসতা, লুটপাট ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআই) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের বেলা কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফ্রান্সে ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে ধারাবাহিক বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান প্রার্থীরা চলমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ও তার মন্ত্রীদের দায়ী করেছেন।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement