জার্মানির দুটি রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ পদে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের দল খ্রিস্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) ফলকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও অর্থনৈতিক, কর ও কল্যাণ সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন ও বার্লিনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে কট্টর ডানপন্থী এএফডি ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছে। ক্ষমতাসীন সামাজিক গণতান্ত্রিক দল পেয়েছে ৩৫.৫ শতাংশ ভোট। সিডিইউ ৫ শতাংশের বাধা পেরোতে পারেনি; ফলে প্রথমবারের মতো কোনো জার্মান রাজ্য সংসদে দলটি প্রতিনিধিত্ব হারাল।
বার্লিনে বামপন্থী দল ‘দ্য লেফট’ ২৫.৭ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রথম হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সিডিইউ ও সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের সমর্থন। রাজধানীতে এই প্রথম ‘দ্য লেফট’ সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলের বার্লিন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্জ। তিনি বলেন, অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও সামাজিক কল্যাণ খাতে যে সংস্কার প্রয়োজন, তা করতেই হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি এই দায়িত্ব নিচ্ছেন বলেও জানান।
মার্জ বলেন, ‘এখন যা করা দরকার, তার জন্য দৃঢ়তা, স্থিরতা ও ধৈর্য প্রয়োজন।’ দলের চেয়ারম্যান এবং বিশেষ করে দেশের চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি তা দেখাবেন বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজ্য নির্বাচনে এএফডির বড় সাফল্যের পরও মার্জ পদে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। এবার পরপর দুই রাজ্যের নির্বাচনে সিডিইউর দুর্বল ফল তার ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। তবে তাকে সমর্থন জানিয়ে জার্মানির আটটি রাজ্যের নেতারা এর আগে বিবৃতি দিয়েছিলেন।
সিডিইউর বার্লিন নেতা বুরকার্ড ড্রেগারও মার্জের দায়িত্বে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, চ্যান্সেলরের সামনে অনেক কাজ রয়েছে এবং নতুন সরকার গঠনের জন্য সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
এদিকে এএফডির জাতীয় সহ-নেত্রী অ্যালিস ভেইডেল দাবি করেছেন, তার দল এখন জনসমর্থনের মূলধারায় পৌঁছে গেছে। দলটির কিছু শাখাকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা কট্টর ডানপন্থী চরমপন্থী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে এএফডি এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে।
মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে এএফডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বেশি ভোট পাওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠন নির্ভর করবে পরবর্তী জোট আলোচনার ওপর।
মার্জের সরকার অভিবাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনী ফলের পরও তিনি এসব পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এসএ