জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এসএসসি সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তারা মাধ্যমিক স্তরে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি বেশ কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত বিশ্বের সরকারগুলো স্কুলে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিধি নিয়ে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশীয় শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিষ্টাচার চর্চার পাশাপাশি বিজ্ঞান চর্চার ওপর গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানান বক্তারা।
আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সংগঠনের আহ্বায়ক, মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বক্তারা এসব বক্তব্য দেন। এসএসসি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শরীফুজ্জামান শরীফ, উন্নয়নকর্মী ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সুমনা সোমা এবং সন্তু মিত্র। অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান ও কাওসার আহমেদ এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন দানিয়ুব প্রমুখ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ মাহমুদ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অসংগতির কথা তুলে ধরে বলেন, এ-সংক্রান্ত বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতাদর্শের সংকীর্ণতা পরিহার করা জরুরি। বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন এবং বিজ্ঞান চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব না দিলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের নানাদিক তুলে ধরে বক্তারা এ সম্পর্ক উন্নয়নে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করেন। আগামী ৬ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবর্ধনায় আগত ঢাকা নগরের কয়েকশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুল, সনদপত্র, ক্রেস্টসহ নানা ধরনের উপহারসামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শন করেন।