সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগচিতে এক মাস চারদিন পর গণনা করে নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া দানবাক্সে স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিনভর গণনা শেষে মোট টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মো. মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগচি ও পাঁচটি দানবাক্সের সিলগালা খোলার পর চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। দিনভর টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনার কাজ চলে।
সিসিক প্রশাসক জানান, দানবাক্স ও ডেগচি থেকে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি।
দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে-
*ইংল্যান্ডের ৫ পাউন্ড
*ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি
*থাইল্যান্ডের ৫ বাথ
*সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা
*মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত
*যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট
*ওমানের ৪০৩ বায়সা
*সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন
*ইরাকের ১ দিনার
*কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা
*ইউরোর ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট
*বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা
*পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা
*চীনের ১৫ ইউয়ান
*ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া
এ সময় নজরানা হিসেবে বেশ কিছু গরু ও ছাগল পাওয়া গেছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে সিলেটে বসবাসরত এবং বহির্বিশ্বে থাকা শাহজালাল (রহ.)-এর অনুরক্ত ও মাজার সম্পর্কে যারা খোঁজ রাখেন, তাদের উদ্দেশ্যে নগদ অর্থের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগির বাণিজ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে ডেকে সেই রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবার এবং ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় মাজারের ডেগচি ও দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। এবার এক মাস চারদিন পর চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হলো।
-টিএস