কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় ‘ক্লু’ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় জানাননি তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তারা কিছু ক্লু পেয়েছে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনা ডিটেক্ট করে ফেলি এবং মূল আসামি ধরে ফেলেছি।’ তবে পরে তিনি স্পষ্ট করেন, হেফাজতে থাকা ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে একজন ব্যক্তি আছে, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার মোবাইল, প্রযুক্তি ও লোকেশন এবং অপ্রতীমের লোকেশন- এগুলো আমরা মিলিয়ে দেখছি। যাকে ধরেছি, সে নির্দোষ হতে পারে, আবার দোষীও হতে পারে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, অপ্রতীমকে হত্যার পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করে অপ্রতীমের বাবা-মা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পুরো বিষয় জানানো হবে।’ এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চান।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই মুহূর্তে এর সঙ্গে যারা মূল কিলার, মিডিয়ার মাধ্যমে জেনে গেলে তারা গা ঢাকা দিতে পারে। এ জন্য এখন বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’
অপ্রতীমের শরীরে কী ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, সুরতহাল এখনো সম্পন্ন হয়নি। সুরতহাল শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজকুমিল্লায় বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।
এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।
সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তার মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
-টিএস