কারও কাছে স্বপ্নের নায়ক, কারও কাছে আদর্শ। মৃত্যুর তিন দশক পরও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহ। আজ তার ৫৫তম জন্মবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে ৫৬ বছরে পা দিতেন তিনি।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। স্কুলজীবন থেকেই বন্ধুদের কাছে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে পাস করেন।
চলচ্চিত্রে আসার আগে নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সালমান শাহ। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়জীবনের সূচনা। এরপর আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট বিয়ে করেন সালমান শাহ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই সিনেমায় অভিষেক হয় মৌসুমীরও। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে নিজের অবস্থান তৈরি করেন সালমান শাহ।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।
সালমান শাহর ২৭টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৩টিতে তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। পর্দায় তাদের রসায়ন দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আলোচিত জুটি হিসেবে পরিচিতি পান তারা। এছাড়া মৌসুমী, শাবনাজ, লিমা, শিল্পী ও সোনিয়াসহ সে সময়ের আরও কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।
অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশনেও নিজের আলাদা ছাপ রেখে গেছেন তিনি। তার পোশাক, চুলের স্টাইল ও সাজসজ্জা পরবর্তী প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও অনুপ্রেরণার হয়ে আছে। এখনো টেলিভিশনে তার সিনেমা প্রচার হলে দর্শকের আগ্রহ দেখা যায়; জনপ্রিয় তার সিনেমার গানও গুনগুন করেন অনেকে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। তবে তার স্বল্পদৈর্ঘ্যের জীবনের চলচ্চিত্রযাত্রা ও অভিনয়ের স্মৃতি আজও দর্শকের মনে জীবন্ত। জন্মদিনে তাই নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে।
আরএন