ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের অব্যাহত সামরিক তৎপরতা ও হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’, ‘ওয়ালা’ এবং ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর পৃথক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব কিংবা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি পৃথক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন।
‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানান, হুথিদের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও সহায়তা নিয়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা পরিচালিত হয়।
সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের পরপরই এই ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়।
প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়, সৌদির পক্ষ থেকে প্রধানত হুথিদের সামরিক অবস্থান, সেনা মোতায়েন ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হামলার পরিকল্পনা আগেই শনাক্ত করার জন্য উন্নত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করার নজির রয়েছে ইসরায়েলের।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উল্লেখজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় দেশটির একটি প্রধান পাইপলাইনের কার্যক্রম আংশিক বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তবর্তী এলাকার একটি মসজিদ ও সংলগ্ন আবাসিক ভবনে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপগুলোর ওপর সম্প্রতি হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। গোষ্ঠীটি বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, যা দেশটির ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, হুথিদের এমন আগ্রাসী সামরিক তৎপরতা কেবল সৌদি আরবের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, মিডল ইস্ট মনিটর)