‘পৃথিবীতে মা ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আপনারা ২০-৫০ টাকা করে দিলেও আমার মায়ের চিকিৎসা করাতে পারব। আমার মাকে আপনারা বাঁচান প্লিজ।’
অসুস্থ মা জয়গুননেছা বেগমের (৪৫) পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন তার মেয়ে শান্তনা খাতুন। হৃদরোগে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে এখন সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা চান তিনি।
জয়গুননেছা বেগম নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার গোপালপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী। কিছুদিন আগে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার হার্টে তিনটি রিং (স্টেন্ট) বসাতে হবে। এ চিকিৎসায় কমপক্ষে দুই লাখ টাকা প্রয়োজন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার খরচ জোগাতে জয়গুননেছা পরিবারের একমাত্র সম্বল গরুটি বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু আরও প্রায় দুই লাখ টাকা প্রয়োজন হওয়ায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। হতদরিদ্র জয়গুননেছার পক্ষে এই অর্থ সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেশীরা জানান, জয়গুননেছার স্বামী আরেক নারীকে বিয়ে করে অন্যত্র সংসার গড়েছেন। এরপর গ্রামে গ্রামে ফেরি করে চুড়ি-মালা বিক্রি করে দুই মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। পরে দুই মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন। তার কোনো ছেলে নেই, নিজের কোনো জমিও নেই।
বর্তমানে বড় মেয়ের ভ্যানচালক স্বামীর কেনা তিন শতাংশ জমিতে ছোট একটি ঘর তুলে কোনোরকমে দিন কাটছিল জয়গুননেছার। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে বর্তমানে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি।
স্বজনরা জানান, যেখানে দুবেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই কঠিন, সেখানে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানো তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব। তাই জয়গুননেছার জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
জয়গুননেছার চিকিৎসায় সহায়তা পাঠাতে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর: ০১৭৫৪৮৩৯১৩৩।
এএইচ/আরএন