পটুয়াখালীর বাউফলে টেকসই বেড়িবাঁধ ও ধুলিয়া-ভেলুমিয়া পয়েন্টে ভোলা-পটুয়াখালী সেতু নির্মাণের দাবিতে ৪ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরে দীর্ঘ এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউফলের ধুলিয়া ও বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর ইউনিয়নের অসংখ্য পরিবার স্বাধীনতার পর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। প্রমত্তা তেঁতুলিয়ায় জোয়ার হলে দুই ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময়ে জেগে ওঠে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই হালের বলদ, পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যান। ইতোমধ্যে তেঁতুলিয়ার ভাঙনে বিলীন হয়েছে কয়েকটি গ্রাম।
ভাঙন রোধে বিগত সরকারের আমলে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লক বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু জোয়ার হলেই বাঁধ উপচে পানিতে প্লাবিত হয় ধুলিয়া ও ফরিদপুর ইউনিয়ন। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিতভাবে ব্লক বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার ক্ষত থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকাবাসী এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। শুক্রবার ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ ধুলিয়া-ভেলুমিয়া পয়েন্টে পটুয়াখালী-ভোলা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সেতু নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বরিশালসহ পায়রা বন্দর ও বাকেরগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ সেতু অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি করবে। খুব কম সময়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের পথ সুগম হবে। গড়ে উঠবে শিল্প-কলকারখানা, সম্প্রসারিত হবে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে ছয়টি জেলার ২৫টি উপজেলার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাঁধ ও সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জেল হক মফুর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম তালুকদার, জামায়াতের উপজেলা আমির রফিকুল ইসলাম, সম্পাদক মো. খালিদুর রহমান প্রমুখ।
এএস/আরএন